বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৪-৫ নম্বরে শেষ করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য

শাহীন আফ্রিদি বললেও পাকিস্তানের চোখ ফাইনালে, বাংলাদেশ শীর্ষস্থান না-করে ৪-৫ নম্বরেই সন্তুষ্ট থাকতে চায়।

গতকাল পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি জানিয়েছেন যে তার দল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, তার দলের লক্ষ্য এখন অতিরিক্ত উচ্চ নয়—আপাতত চক্রটি চার- কিংবা পাঁচ নম্বরে শেষ করাই উদ্দেশ্য।

শান্ত মনে করেন, গত দুই বছরে দলের পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে ভালো হয়েছে এবং ২০২৩-২৫ চক্রে সপ্তম স্থানে শেষ করা একটি ইতিবাচক অর্জন। ‘‘গত দুই বছর আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি, ৭ নম্বরে শেষ করা আমার মনে হয় একটি ভালো অর্জন। ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে, আগের চক্রগুলোতে এমনটা হয়নি। এবার যদি চার-পাঁচে শেষ করতে পারি খুবই ভালো লাগবে,’’ বলেন নাজমুল।

বাংলাদেশের জন্য ২০২৩-২৫ চক্রটি মোট মিলিয়ে সফলভাবেই কেটেছে—সেই চক্রে টাইগাররা চারটি টেস্ট জয় পায়। এর মধ্যে ছিল ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে জয়, ২০২৪ সালের আগস্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ে শেষ করা, এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি টেস্ট জেতা।

আগামীকাল ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের সিরিজ, যা বাংলাদেশের চলমান টেস্ট চক্রের শুরু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শান্ত বলেন, ঘরের ম্যাচগুলোতে ভালো করে সুবিধা নিয়ে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পয়েন্ট নেওয়াই তাদের পরিকল্পনা। ‘‘আমরা ঘরের কন্ডিশনে প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা অনুযায়ী চরিত্র নির্ধারণ করে খেলার চেষ্টা করব,’’ যোগ করেন তিনি।

ঘরের সিরিজ ছাড়াও চলতি বছর বাংলাদেশ আরও দুটি কঠিন সিরিজ খেলবে। আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ—প্রথম টেস্ট ১৩ আগস্ট ডারউইনে, দ্বিতীয় টেস্ট ২২ আগস্ট ম্যাকায়। পরে নভেম্বরে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচ—প্রথম ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে, দ্বিতীয় ২৩ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে নিয়মিত না খেলার কারণে এগুলো চ্যালেঞ্জিং হবে বলেই শান্তের অভিমত।

তবুও ঘরের মাঠে ধারাবাহিক ভালো খেলায় বিশ্বাসী শান্ত মনে করেন দলের ভারসাম্য ভালো—পেস বোলিং, স্পিন বোলিং ও ব্যাটিং মিলিয়ে দলটি পর্যাপ্ত শক্তি জমাচ্ছে। তাই প্রথম ধাপে ঘরের সিরিজে ভালো ফল করতে পারলেই ভবিষ্যতের কঠিন সফরগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।