শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৭ বছরের ওয়াকিমুলের ‘এ টু আই স্মার্ট কারে’ চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম যে গাড়িটি বানিয়েছেন—‘এ টু আই স্মার্ট কার’—সেই ছোট ব্যাটারি চালিত বাহনে কিছু সময়ের জন্যই correct প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে প্রদর্শনী চালিয়ে দেন তিনি। শনিবার (৯ মে) সকালে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওয়াকিমুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে উষ্ম অভ্যর্থনা জানান এবং এই কৃতিত্বকে উৎসাহিত করেন।

ওয়াকিমুল সামান্য ডিহবিল্ট শিশুর মতো নয়—তিনি নিজেই গাড়িটি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন এবং মুহূর্তেই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেখান। প্রধানমন্ত্রীর পেছনে বসে গাড়িটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে তিনি ১৭ বছর বয়সী এই তরুণকে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এরকম সৃজনশীল উদ্যম প্রকাশ করার জন্য প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে কম খরচে আরও আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শ দেন এবং এমন সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে সমর্থনের আশ্বাসও দেন।

ওয়াকিমুল সাক্ষাৎকালে জানান, আগে সারাদিন বাড়িতেই থাকতেন, একা বাইরে যেতে পারতেন না—এই সমস্যা থেকেই তিনি নিজেভাবে চলাফেরার উপায় খুঁজতে গিয়ে গড়েছেন এই স্মার্ট কার। তিনি প্রয়োজনে সহায়তা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও উন্নত মডেল তৈরি করতে পারবেন এবং সেই গাড়ি কেবল বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদেরই নয়, বয়স্কদের জন্যও ব্যবহার উপযোগী হবে বলেও জানান।

ওয়াকিমুল যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তাঁর পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাঁর পাশে ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল, যিনি জানান—গাড়িটি একবার চার্জে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে এবং সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৪৫ কিমি/ঘণ্টা।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ওয়াকিমুলের পরিচ্ছন্ন ও পরিষ্কার ধারণা, সহজগতির ডিজাইন ও দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ থেকে ভবিষ্যতে আরও সাশ্রয়ী ও বহুমুখী স্মার্ট ট্রান্সপোর্ট গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকলে সরকারিভাবে সহযোগিতা দিলে তা দ্রুত বাস্তবে রুপ নেবে, এটাই অনুষ্ঠানের মূল প্রেক্ষাপট ছিল।