অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলার শুনানির পর তিন ঘণ্টা কারাগারে থাকার পর বুধবার বিকেলে জামিন পেলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বিএমএ খুলনার সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম। মহানগর সোনাডাঙ্গা আমলি আদালতের বিচারক মোঃ ফরিদুজ্জামান আদালত তার শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং বাদীর সঙ্গে আপোষের শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানির সময় ডাঃ বাহার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালস প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ডাঃ শেখ বাহারুল আলমের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিয়োগ হয়েছে। মেসার্স স্মার্ট এগ্রো বিডির প্রোপ্রাইটর মিসেস লুবনা জাহান উল্লেখ করেন, তারা ৪০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বাদীর প্রতিনিধিরা আসামীর কাছে ওষুধের প্রস্তুতিসহ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত তথ্য জানার জন্য বারবার অনুরোধ করেন, কিন্তু ডাঃ বাহার ও অন্যান্য পরিচালক কোন তথ্য প্রদান করেননি। এছাড়াও, চুক্তির ১২নং শর্ত অনুযায়ী, ব্যবসার লাভ-লোকসান হিশাব-নিকাশ প্রতি ৯০ দিন পর পর ৫৫% লাভ এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালসের এবং ৪৫% অংশ প্রাপ্তির কথা থাকলেও, প্রথম তিন মাসের মধ্যে আসামের থেকে কোন লাভ বা ক্ষতি ভাগাভাগি করা হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে বাদীকে হয়রানি এবং বিভ্রান্তি করা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মেসার্স স্মার্ট এগ্রো বিডির নারী প্রোপ্রাইটর মিসেস লুবনা জাহান দেশের আদালতে ডাঃ শেখ বাহারুল আলমের বিরুদ্ধে মামলার নং-সিআর-৭১৮/২৫ দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অর্থের বিনিময়ে ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। এছাড়া, বাদীর পরিবারের সদস্যসহ অন্যদের প্রতি ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বাদী লুবনা জাহান এর স্বামী, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জাহাঙ্গীর দাবি করেন, ডাঃ বাহারুলের বিরুদ্ধে তার পরিবার ও স্বজনের পক্ষ থেকে অগণিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রতারণা, অর্থের অনিয়ম ও পারিবারিক বিরোধের নানা অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।





