খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সলুয়া এলাকায় নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টটি চালু হলে প্রতিদিন এখানে প্রায় ৩৫০ টন বর্জ্যের প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আশা ব্যক্ত করেছেন, আগামী নভেম্বর মাসে প্ল্যান্টটি চালু হলে নগরীর বর্জ্য কেবল অপচয় নয়—বরং ব্যবসায়িক মূল্য رکھنے যোগ্য পণ্যে রূপান্তরিত হবে। এ প্রকল্প নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই তথ্য তিনি সোমবার বিকেলে শহরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ববানিয়াখামার জনকল্যাণ টাওয়ারে আয়োজিত ‘মডেল ওয়ার্ড বাস্তবায়নে নাগরিক অংশগ্রহণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন। পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ-খুলনার সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা পরিবর্তন আয়োজন করেছিল এই সভা। পরিবর্তন সংস্থা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার কাজে নিযুক্ত রয়েছে।
সভায় কেসিসি প্রশাসক নাগরিকদের আবেদন জানান, বর্জ্য ড্রেনে বা পথমধ্যে না ফেলতে এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ন্যূনতমভাবে জমা রেখে কেসিসি’র কাজে সহযোগিতা করতে। পাশাপাশি বাড়ি থেকেই বর্জ্য পৃথকীকরণ করার কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার প্রতি জোর দেওয়া হয়।
পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ-খুলনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেসিসির কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান ও খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুতপা বেদজ্ঞ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবর্তন সংস্থার প্রধান নির্বাহী নজমুল আজম ডেভিড।
সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ ওয়াসিউল ইসলাম একটি ডিজিটাল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নগরের পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার গ্রাফিক কন্টেন্ট তুলে ধরেন। প্রেজেন্টেশনে কীভাবে বর্জ্য আলাদা করা যাবে, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান শনাক্ত করা যাবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে—এসব নিয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
সম্মেলনে জোর দিয়ে বলা হয়, কেসিসি একা কষ্ট করে পুরো ওয়ার্ডকে বাসযোগ্য করে তুলতে পারবে না; স্থানীয় জনগণ—তরুণ, শিক্ষার্থী, যুবক-যুবতী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতাসহ বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সভায় উপস্থিতরা পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলতে, অপরকে ফেরত দিতে উৎসাহিত করতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি জানান।
কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক সচেতনতার সমন্বয়ে বর্জ্যকে সম্পদ হিসেবে দেখার দিকটি ঘুরে আসে—প্ল্যান্ট চালু হলে বর্জ্য থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করে অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টির দিক থেকে শহরটি লাভবান হবে বলে বক্তারা মনে করেন।
সভা শেষে স্থানীয় নেতৃত্ব ও নাগরিকদের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান করা হয়, যাতে নভেম্বরের মধ্যে প্ল্যান্ট চালুর প্রস্তুতি এবং মডেল ওয়ার্ড গড়ার কার্যক্রম সফলভাবে শুরু করা যায়।





