পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার মগরার বাসিন্দা ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তী (২২) গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মগরা থানার পুলিশ সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠায়। সায়নীর আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যে শোক ও চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
পরিবর্তিত প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনাটি আত্মহত্যার শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও যাবতীয় সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ 관계자는 বলেছেন, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানবে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি; তবে শোকস্তব্ধ পরিবারটি শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে পুলিশকে জানানো হয়েছে, সায়নীর দীর্ঘদিন ধরে ত্রিবেণী এলাকার এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং সাম্প্রতিককালে সেই সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল। তদন্তকারীরা সম্বন্ধীয় সূত্র এবং মানসিক অবসাদ—উভয় দিক থেকেই ঘটনাটিকে খতিয়ে দেখছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সায়নী কয়েকদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন; তবে সম্পর্কের টানাপোড়েনই কি তাঁকে চরম সিদ্ধান্তে ঠেলে দিয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরে স্পষ্ট হবে।
সায়নী কেবল একজন আইনশিক্ষার্থীই ছিলেন না, বরং সামাজিক মাধ্যমে তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন—ফলোয়ার সংখ্যা তিন লক্ষেরও বেশি। মা মলি চক্রবর্তীর সঙ্গে মিলে বানানো দৈনন্দিন জীবনের সরল ভিডিওগুলো দর্শকদের মধ্যে ভালবাসা অর্জন করেছিল। বিশেষ করে তাঁর পোষ্য গরু ‘সুন্দরী’কে নিয়ে খেলাধুলোর মুহূর্তগুলো দর্শককে মুগ্ধ করত; মৃত্যু ঘটার মাত্র একদিন আগে তিনি সুন্দরীকে নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন।
সায়নীর মোটরসাইকেল চালানো, ঐতিহ্যবাহী শাড়ি বা আধুনিক জিনসে বাইক চালানোর রিলও বেশ জনপ্রিয় ছিল। তিনি ব্রাইডাল মডেল হিসেবেও কাজ করতেন; ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা তাঁর শেষ ভিডিওটি ছিল বিয়ের সাজে কনে সেজে একটি পুরনো বাংলা গানের সঙ্গে ঠোঁট মেলানোর ক্লিপ।
এখন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং পুলিশি তদন্তের ফলের অপেক্ষা চলছে। পুলিশ জনগণকে অনুরোধ করেছে যে, প্রাথমিক তথ্য ছাপিয়ে গুজব না ছড়ানোই শ্রেয় এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সম্মান দেখানো হোক।





