ফাইনালে টাইব্রেকারের নাটকে আর্সেনালের স্বপ্ন ভেঙে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হল পিএরিস সেন-জার্ম্যাঁ (পিএসজি)। ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় শেষে একই স্কোরে থাকায় নির্ধারণ করা হয় পেনাল্টি শুটআউটে; সেখানে পিএসজি ৪-৩ গোলে জয়ী হয়ে ইউরোপীয় সেরাদের সম্মান আবারও ধরে রাখে।
গত মরশুমেই প্রথমবারি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ ছুঁতে পেছিল পিএসজি; তখন তারা ইন্টার মিলানকে হারিয়েছিল। এবার কঠোর লড়াই, দক্ষ রক্ষণ ও সুদূরপ্রসারী আক্রমণে আর্সেনালকে সহজে হারাতে পারেনি প্যারিসবাসীরা।
ফাইনালের খোঁচা খেলায় আর্সেনালই শুরুতে সুবিধা নেন। ম্যাচের প্রথমার্ধে মার্কিনহোসের ক্লিয়ার করা বল লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়ে কাই হাভার্টজের কাছে এসে পড়ে; হাভার্টজ মাঝমাঠ থেকে একা সাঁতার কেটে চালিয়ে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি ম্যাচে ফেরার হেকড়া দেখায়। প্রায় এক ঘণ্টা প্রতিরোধের পর শেষমেশ তাদের ধৈর্য ও চাপ আর্সেনালের রক্ষণ ভেঙে দেয়। ক্রিসথিয়ান মস্কেরা পেনাল্টি বক্সে পিএসজির খভিচা কভারাতসখেলিয়াকে ফাউল করেন এবং ভিএআর চেকের পর উসমান দেম্বেলে নির্ধারিত পেনাল্টি ঠান্ডা মাথায় জালে পরিণত করে ম্যাচ সমতায় আনে।
নিয়মিত সময় ও অতিরিক্ত দুই পর্যায় শেষে গোলসংখ্যা সমান থাকায় ভিড় জমে টাইব্রেকারে। সেখানে দুই দলের খেলোয়াড়রা মানসিক শক্তি ও নিখুঁত কনসেন্ট্রেশনের লড়াইয়ে নেমে পড়েন। পিএসজি তাদের শুটআউট চালনায় রীতিমতো স্থিরতা দেখায়—প্রথম দিকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শট সফল হয় এবং আর্সেনাল কিছু জরুরি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। অবশেষে পিএসজি ৪-৩ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শিরোপার আনন্দে ভাসে।
এই জয়ের সঙ্গে পিএসজি ইতিহাসেও নাম লেখাল: ১৯৯২ সালে ইউরোপীয় ক্লাব টুর্নামেন্টের নামকরণ বদলানোর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে শিরোপা রক্ষা করা দল হিসেবে তারা রিয়াল মাদ্রিদের পরে দ্বিতীয় দল হিসেবে স্থান পেল। ২০১৬-২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ধারাবাহিক তিনবার শিরোপা জিতেছিল; পিএসজি এই বার ধারাবাহিকতা ধরে রাখায় বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করল।
আরসেনাল অনেকে মনে করেছিল প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পর (২২ বছর পর শিরোপা) তারা ইউরোপেও সাফল্য ছুঁতে পারে, কিন্তু ২০০৬ সালের পর প্রথম ফাইনালে উঠে সেই অপেক্ষা আরও লম্বা হল। প্রতিযোগিতার উত্তাপ, কনসেন্ট্রেশন হারানো—সব মিলিয়ে ছোট একটি ত্রুটি তাদের স্বপ্ন ভাঙার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯৫৫ সালে ইউরোপীয় কাপে শুরু থেকে গণনা করলে পিএসজি ১০তম দল হিসেবে টানা দুটি সিজনে শিরোপা জেতার কীর্তি গড়ল। ফুটবলের উত্থান-পতন ও নাটকীয়তার মধ্যেই এই ফাইনালও দর্শকদের মন মনে গেঁথে থাকবে।





