সোমবার, ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাকিস্তান ও চীনের উপস্থিতি মোকাবিলায় সাবমেরিন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ভারত

ভারত মহাসাগরে পাকিস্তান ও চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিজের সাবমেরিন সক্ষমতা জোরদার করছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে. ত্রিপাঠী। শনিবার পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।

অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী বলেন, “ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বহিঃআঞ্চলিক শক্তিগুলোর উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে আমরা পুরোপুরি সজাগ ও সচেতন। এলাকা এখন ‘সহযোগিতার যুগ’ থেকে ‘তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে’ প্রবেশ করছে।”

সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও পাকিস্তানের সহযোগিতা এবং যৌথ সামুদ্রিক কার্যক্রম বাড়ায় ভারতের সতর্কতা বেড়েছে। গত মাসে চীন তৈরির চারটি ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন পাকিস্তানের নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়া এবং দুই দেশের সামরিক উভয় পক্ষের যৌথ ঘোষণা এ প্রবণতারই এক উদাহরণ।

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, “একটি পেশাদার সামুদ্রিক বাহিনী হিসেবে আমরা আশপাশের সব আঞ্চলিক বিষয়গুলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি। আমাদের কৌশল সম্পূর্ণভাবে সক্ষমতাভিত্তিক এবং হুমকি-সচেতন।”

ভারতের সামুদ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকারিভাবে গৃহীত হয়েছে প্রজেক্ট ৭৫-ইন্ডিয়া (পি৭৫-আই)। এই প্রকল্পের আওতায় নিকট ভবিষ্যতে আধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন ৬টি সাবমেরিন ও প্রায় ২ শতাধিক যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে বলে জানান অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী। এসব প্ল্যাটফর্ম কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে নৌবাহিনী ও তার প্রকৌশলী দলের দ্বারা নির্মিত হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা আত্মনির্ভরতার নীতির ওপর জোর দিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে কাজ করছি।” প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।