মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মা-বাবা ও স্ত্রীর কবরপাশে চিরশান্তিতে শায়িত হলেন তোফায়েল আহমেদ

মহান মুক্তিযুদ্ধেরনায়ক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদকে শনিবার নয়—গতকাল সোমবার ঢাকা的一টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হলে তাঁর মরদেহ এনেছে ভোলায় এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। (Note: keep consistent—user said Monday; ensure day mention). গতকাল রাতে হাসপাতলে শেষ নিঃশ্বাস নেওয়া ৮২ বছর বয়সী তোফায়েল আহমেদের শেষকৃত্য আজ মঙ্গলবার ভোলায় সম্পন্ন করা হয়।

ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে দুপুরে হেলিকপ্টারে মরদেহ ভোলায় আনা হয়। বিকেল পর্যন্ত কর্মসূচি অনুসারে জেলার বিভিন্ন স্থান ও গ্রামের মানুষরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছান। বেলা দেড়টার দিকে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরদেহ মাঠে পৌঁছালে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

জানাজার আগে থেকেই মাঠে মানুষের ভিড় জমে যায়। একপর্যায়ে কিছু বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তারা জানাজার স্থান পরিবর্তন করে তোফায়েলের নিজ গ্রাম কোড়ালিয়ায় নেওয়ার দাবি জানান। তারা কয়েকটি স্লোগানও দেয়। দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে উপস্থিত জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ (ট্রুম্যান) ও নির্বাহী সদস্য ইয়ারুল আলম (লিটন)সহ নেতারা ঘটনাস্থলে এসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখেন।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বেলা ২টা ২০ মিনিটে দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় তার জন্মভূমি দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে পারিবারিক বাড়িতে। বিকেলে সেখানে বাড়ির সামনে মাঠে তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে পরিবারের সদস্য ও নিকটজনদের উপস্থিতিতে তিনি মা-বাবা ও স্ত্রী-সহ কবরপাশে দাফন করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের পরিচয় গড়ে তোলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদানে নাম লেখান।

১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলতখান-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার মন্ত্রীপদ করেছেন এবং দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

দাফনে রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা স্তরের নেতারা অংশ নেন। জেলা বিএনপি আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম নবি আলমগীরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষও শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

শোকাহত পরিবারের সদস্যরা বলেন, তাঁর চলে যাওয়ায় রাজনৈতিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। পরিবারের অন্যতম সদস্য জানিয়েছেন, পরিবারের নিকট চাহিদা ও শালিস মেনে শান্তিপূর্ণভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।