বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জবরদস্তিমূলক শ্রমের অভিযোগে ৬০ দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছেন, জবরদস্তিমূলক শ্রম (ফোর্সড লেবার) রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ—এই অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশ ও অঞ্চলের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) গতকালের (মঙ্গলবার, ২ জুন) ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে; খবর দিয়েছে রয়টার্স।

ইউএসটিআর জানিয়েছে, তাদের ‘সেকশন ৩০১’ তদন্তে দেখা গেছে যে প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলো জবরদস্তিমূলক শ্রমে তৈরি পণ্যের বাণিজ্যকে প্রতিহত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না, ফলে এটি মার্কিন শ্রম বাজারে অনুকূল নয়। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের অংশীদাররা যদি জবরদস্তিমূলক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে মার্কিন শ্রমিকেরা বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় অনিয়মের সম্মুখীন হবে।

প্রস্তাবিত কাঠামোর ভিত্তিতে—যেসব দেশের বিরুদ্ধে আংশিক নিষেধাজ্ঞা আছে অথবা যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্য ব্যবস্থা রয়েছে—তাদের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। বাংলাদেশ এই তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে, যেসব দেশের বিরুদ্ধে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শুল্ক হার হতে পারে ১২.৫ শতাংশ। ভারত, চীন, জাপান, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোকেও একই কারণে ১০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের ওপর এই শুল্কের প্রভাব নিয়েই উদ্বেগ রয়েছে। ইউএসটিআর একইসঙ্গে একটি বিশেষ ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’ বা ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য কম শুল্কে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। তবে এই কোটার পরিমাণ এবং যোগ্যতার শর্তাবলী এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এই শুল্কগুলো এখনই কার্যকর হচ্ছে না। ইউএসটিআর জানিয়েছে, জনসাধারণের লিখিত মতামত গ্রহণ করা হবে ৬ জুলাই পর্যন্ত এবং ৭ জুলাই থেকে গণশুনানি শুরু হবে। শোনা এবং মতামত সংগ্রহের পরই চূড়ান্ত শুল্কহার ও বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি শুল্ক সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়ার পর থেকে প্রশাসন আইনি পথে এই শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল বা স্থায়ী করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত কৌশলের অংশ, যেখানে অস্থায়ী শুল্কের বদলে দেশভিত্তিক স্থায়ী শুল্ক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

এখন জোরদার கேட்ட রাখা প্রশ্ন হচ্ছে—এই প্রস্তাব বাস্তবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে কি ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশের রপ্তানিতে তা কতটা বাধা সৃষ্টি করবে। আগামি শুনানি ও মতামতগ্রহনের প্রক্রিয়া এগোলে এসব বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।