যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, জবরদস্তিমূলক শ্রম বা ‘ফোর্সড লেবার’ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশ ও অঞ্চলের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর)। মঙ্গলবার (২ জুন) ইউএসটিআর এই প্রস্তাবনা প্রকাশ করে; প্রতিবেদনের সূত্র দিচ্ছে রয়টার্স।
ইউএসটিআর-এর ‘সেকশন ৩০১’ তদন্তে দেখা গেছে, কিছু প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ জবরদস্তিমূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য বন্ধ করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য অনির্বচনীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বিবৃতিতে বলেন, প্রধান অংশীদারদের পক্ষ থেকে জবরদস্তিমূলক শ্রম রোধে পদক্ষেপ না নেওয়া অগ্রহণযোগ্য, কারণ এতে মার্কিন শ্রমিকদের সাথে অসম প্রতিযোগিতা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, যেসব দেশের ওপর জবরদস্তিমূলক শ্রম বিরোধী আংশিক নিষেধাজ্ঞা বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য ব্যবস্থার বিধান রয়েছে, তাদের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে। কিন্তু যাদের কাছে ওই ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য শুল্কের হার ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ানো হতে পারে। বাংলাদেশও এই তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে আছে। ভারত, চীন, জাপান, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোকেও একই কারণে শুল্কের শিকার হতে পারে।
রপ্তানিতে প্রধান ভরসা থাকা তৈরি পোশাক খাতের ওপর এই প্রস্তাবিত শুল্ক বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড় করাতে পারে—তবে ইউএসটিআর একটি বিশেষ ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’ প্রস্তাব করেছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ টেক্সটাইল ও পোশাকপণ্য কম শুল্কে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে, কিন্তু কোটার পরিমাণ ও যোগ্যতার মানদণ্ড এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
তৎক্ষণাৎ এই শুল্ক কার্যকর হবে না। ইউএসটিআর জানান, তারা ৬ জুলাই পর্যন্ত জনসাধারণের লিখিত মন্তব্য গ্রহণ করবে এবং ৭ জুলাই থেকে গণশুনানি শুরু হবে। গণশুনানি ও মন্তব্যের ভিত্তিতে শুল্কের চূড়ান্ত হার ও প্রয়োগের সময় নির্ধারণ করা হবে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি শুল্ক সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত বাতিল করার পর বর্তমান প্রশাসন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব শুল্ক পুনর্বহালের পথ খুঁজছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক কৌশলের অংশ, যেখানে অস্থায়ী শুল্কের বদলে দেশভিত্তিক স্থায়ী শুল্ক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ প্রস্তাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বাংলাদেশসহ নাম্বারভুক্ত দেশগুলো সিদ্ধান্তের সুফল-অসুবিধা বিচার করে যুক্তরাষ্ট্রের গণশুনানি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।





