শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভারত ফিরেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দিপক; দিল্লিতে বিক্ষোভের অনুমতি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তোলা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দিপক। শনিবার (৬ জুন) সকালে তিনি দিল্লিতে অবতরণ করেন—নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে এ তথ্য নিশ্চয়ই করেছেন। জানা যায়, পূর্বপরিকল্পিত যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদে অংশ নিতেই তিনি দেশ ফিরেছেন।

অবতরণের পরে অভিজিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জোর আবেদন করেন। তিনি বলেছেন, আন্দোলনকে সম্পূর্ণভাবে অহিংস রাখতে হবে এবং সবাই যেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করে। নিজে যে উত্তেজনা ছড়াতে চান না, সে বার্তাই তিনি বারবার দিচ্ছেন।

তাঁর এক্স পোস্টে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে লিখেছেন, “যন্তর মন্তরে আপনাদের সবার সঙ্গে দেখা করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আসার সময় সঙ্গে একটি করে বই এবং আমাদের জাতীয় পতাকা ‘তেরঙা’ আনতে ভুলবেন না।” পাশাপাশি অভিজিত পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, “কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে তাদের ফুল দিয়ে সম্মান করুন। আমাদের আন্দোলনকে ভালোবাসা ও শান্তির মাধ্যমে সামনে নিয়ে যেতে হবে।”

বিমানবন্দরে নামার সময় অভিজিতের হাতে দেখা যায় ভারতের সমাজ সংস্কারক বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনী—এটি তার বক্তব্য ও সংগ্রামের প্রতি যোগসূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিজেপির এক মুখপাত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার জন্য তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লি পুলিশের অনুমতি পেয়েছেন। বিমানবন্দরে উপস্থিত পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অভিজিত দিপকের সঙ্গে আলাপ করেন এবং ওই বৈঠকের পরে দলের পক্ষ থেকে সমর্থকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সমর্থকরা যেন পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে ভিড় না করেন, বরং সরাসরি যন্তর মন্তরের সমাবেশস্থলে চলে যান। পুলিশি সবুজ সংকেত পাওয়ার পর অভিজিত তার এক্স হ্যান্ডেলে চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে লেখেন, “সব ‘ককরোচ’ বা সমর্থকদের বলছি, কেউ পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যাবেন না। সবাই সোজা যন্তর মন্তরে চলে আসুন। সকাল ১০টা থেকেই আমাদের এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হবে।”

এ প্রসঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে বলা যায়, ১৬ মে অভিজিত একটি প্যারোডি দল হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ঘোষণার মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক কার্যক্রম সংবাদ শিরোনামে আসে। এ নামকরণটি আসলে ভারতের শাসক দলের নামের এক ধরনের শব্দচিত্র—এই প্যারোডি ইভেন্টটি তারপর প্রচারণায় পরিণত হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত যুবকদের সমালোচনাকালে ‘তেলাপোকা’ বা ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ বলে অভিহিত করেন—এর ফলে তরুণ সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়ায়। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, তার মন্তব্যকে ভিন্ন প্রসঙ্গে টেনে আনা হয়েছে।

আবার সিজেপি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও তাঁর মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে কয়েকটি সরকারি পরীক্ষায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তোলায় তাঁর পদত্যাগ দাবিও করে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজকের দিল্লি বিক্ষোভের মূল আক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রকের দুর্নীতির বিষয়টিই বলে দল জানিয়েছে।

অবশেষে, অভিজিত দিপকের এক প্রবচনে দেখা যায়—তিনি অনুষ্ঠানে শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সমর্থকদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দিচ্ছেন। দিল্লির যন্তর মন্তরে আজকের বিক্ষোভ কেমনভাবে এগোবে, তা পুলিশি নির্দেশনা ও অংশগ্রহণকারীদের আচরনের ওপর নির্ভর করবে।