বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে মাঠে নেমে জয় তুলে রেখেছে দক্ষিণ আমেরিকার দুই বিশাল শক্তি—ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুই দলের খেলাই ছিল আস্থার সুরসহ নিয়ন্ত্রিত, এবং বিশ্বকাপের আগে তাদের আশা-আবেগ উভয়কেই ফুটে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিল দারুণ ফুটবল খেলল ও মিসরকে ২-১ গোলে হারিয়ে খেলায় জয় নিশ্চিত করে। প্রথমার্ধে মাঝমাঠের দায়িত্বে থাকা ব্রুনো গিমারেস দলের হয়ে এগিয়ে দেন। পরে তরুণ স্ট্রাইকার এনদ্রিক ব্যবধান বাড়িয়ে ব্রাজিলকে স্বস্তির অবস্থানে নিয়ে যান। ম্যাচের শেষ দিকে মিসর এক গোল শোধ করলেও সেটি ব্রাজিলের জন্য বিপদ সৃষ্টি করতে পারেনি এবং কার্লো আনচেলত্তির দল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
তবে জয়ের পাশাপাশি উদ্বেগও আছে: মাত্র ১৫ মিনিট খেলেই রাইটব্যাক ওয়েসলি বাঁ কুঁচকির ব্যথায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলের স্কোয়াডে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া এই ২২ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ইনজুরি পেয়ে ডাগআউটে গিয়ে কাঁদেন, যা অনুরাগীদের মন খারাপ করেছে।
এই ম্যাচ ছিল ব্রাজিলের বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। আগে তারা পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়ে শোকের মাঝেই আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল। এবার ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তাদের ষষ্ঠ শিরোপার মisión শুরু করবে। গ্রুপ পর্বে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
অন্যদিকে টেক্সাসের কলেজ স্টেশনের কাইল ফিল্ডে আর্জেন্টিনা মেসি ছাড়া মাঠে নামে—কিছুটা শারীরিক অস্বস্তির কারণে অধিনায়ককে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল। মেসি অনুপস্থিত থাকলেও আর্জেন্টিনার খেলায় নিয়ন্ত্রণ স্পষ্ট ছিল। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে বক্সের ভিতরে নিওলাস তালিয়াফিকোর ওপর ফাউল হলে আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টি মিলে এবং স্পট কিক থেকে লাওতারো মার্তিনেজ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর দিকে জুলিয়ানো সিমিওনে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন—লাওতারো মার্তিনেজের চমৎকার ব্যাকহিল পাস থেকে সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি গোলটি করেন। এরপর কোচ লিওনেল স্কালোনি একাধিক পরিবর্তন করেছেন, কিন্তু ম্যাচের ফলাফল বদলাননি এবং আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের আগে আর একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে—আগামী ৯ জুন তারা আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এরপর ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু। একই গ্রুপে আর্জেন্টিনার অন্য প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।
দুই দলের জয়ে ভক্তরা আশার আলো পেয়েছেন, তবে ইনজুরি ও কয়েকটি প্রশ্নচিহ্ন কোচদের মাথায় ভাবনার কারণ হিসেবে আছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই শেষ প্রস্তুতি ম্যাচগুলো থেকে পাওয়া শিক্ষা তাদের টুর্নামেন্টে কীভাবে কাজে লাগবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।





