রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১৫ বার পিছিয়েছে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান জানিয়েছেন, হাদি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়ার কথা ১৫ বার পিছিয়ে পড়েছে। আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১৭ জুন ধার্য করেন।

দলীয় পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) থেকে দায়িত্বরত তদন্ত কর্মকর্তা—সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রোর (পূর্ব) সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুর কাদির ভূঁঞা—আজ প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পটভূমি: গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয়। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। মামলার প্রাথমিক শুনানিতে (১২ জানুয়ারি) বাদী এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুদিন সময় চান; আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওই দিন বাদী আদালতে অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানালে পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

হাদির পরিচিতি ছিল রাজনৈতিক—জুলাই বিক্ষোভ এবং ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ’ আন্দোলনের সময় তিনি注 পরিচিত হন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগে বিজয়নগর এলাকায় যাওয়ার সময় চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে পিছন থেকে আসা একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং রাতেই তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। দুদিন পর তিনি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন; পরে মামলায় হত্যার ধারা (ধারা ৩০২) যোগ করা হয়। থানা পুলিশের তদন্তের পর মামলার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে।

ডিবি তদন্ত শেষে ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলার তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পি), সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে মূলভুক্তদের মধ্যে রয়েছে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ (যাকে রাহুল বা দাউদ নামেও ডাকা হয়), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী (উজ্জ্বল), সিবিয়ন দিউ (ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ), সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম (রাজু) ইত্যাদি। অভিযোগপত্রে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার থাকা অন্যদের নামও বলা হয়েছে। অভিযোগপ্রকাশক দলে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছে।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তাদের প্রাথমিক অনুমান—হাদিকে হত্যা করার পিছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাই কাজ করেছে। পাশাপাশি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতেই ফয়সাল করিম মাসুদের নেতৃত্বে একটি পূর্বপরিকল্পিত অভিযান চালানো হয়েছিল, যেখানে হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে এই হামলা চালানো হয়।

অতিরিক্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা আটকা থাকায় মামলার শুনানি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে; বর্তমানে ধার্য করা নতুন তারিখ ১৭ জুন। মামলার অগ্রগতিতে আজকের বদলি বিষয়ে আগ্রহী জনতার দৃষ্টি টিকে আছে, এবং পরবর্তী শুনানিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে তা মামলা কতদূর এগোবে তা স্পষ্ট হবে।