বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাঠে নামেই গোল: মেসি ফিরলেন, রেকর্ড গড়লেন

বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরুর আগে ফাইনাল প্রস্তুতি হিসেবে আইসল্যান্ডের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে নামলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই সবথেকে সুখবর পেল আকাশী-সাদা শিবির — দীর্ঘক্ষণ ছুটে থাকা চোট কাটিয়ে দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি আবার মাঠে ফেরেন এবং ফিরেই গোল করেন, বিশ্বকাপের জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিলেন।

ম্যাচটি আলাবামায় অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন মেসি; ম্যাচের ৬৯ মিনিট ৪ সেকেন্ডে জূলিয়ানো সিমেওনের বদলি হিসেবে মাঠে নামান তিনি। গ্যালারির মনে করিয়ে দিতে সময় লাগেনি—মাঠে নামার মাত্র ৫৩ সেকেন্ডের মধ্যে গোল নেমে আসে। মেসির দারুণ পাস থেকে আক্রমণ শুরু হলে লাউতারো মার্টিনেজ শট নিলে আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক তাকে ফাউল করেন; রেফারি পেনাল্টি দিলে স্পটকিক ঠেকাতে ভুল করেননি মেসি। জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধান এনে দেন তিনি।

এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় দলে মেসির গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১১৭-এ। সঙ্গে একটি নতুন রেকর্ডও এলো—৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বড় বয়সে গোল করা ফুটবলার। দীর্ঘদিন ধরে এই রেকর্ডটি ছিল কাঁধে থাকা কিংবদন্তি অ্যাঞ্জেল লাবরুনার, যিনি ১৯৫৭ সালের রোকা কাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে গোল করেছিলেন। প্রায় সাত দশক পর সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন মেসি।

এছাড়া, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে চারটি গোল করে তিনি বিশ্বকাপের পেনাল্টি গোল সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডের অংশও ছিলেন; আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপে আর একটি পেনাল্টি করে দিলে ওই সংক্রান্ত সব রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেওয়ার সুযোগ মেসির সামনে আছে।

মেসি ২৪ মে ইন্টার মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন। তবে সে চোট গুরুতর না হওয়ায় দ্রুতই সেরে উঠেছেন এবং আইসল্যান্ড ম্যাচে ফিরেই নিজের ক্ষমতা দেখালেন।

প্রসঙ্গত, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে। সেটিই হবে মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ।