কাউন্টডাউন শেষ হওয়ার কণ্ঠরোধকারী মুহূর্ত চলে এসেছে — আগামীকাল শুরু হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব ২০২৬ বিশ্বকাপ। মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ আয়োজনে এই টুর্নামেন্ট ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখছে: ৩২ দলকে ছাড়িয়ে এবার মাঠে নামবে ৪৮ দেশ। এ ঐতিহাসিক আয়োজনের উদ্বোধনীতে থাকছে তিন ভাগে বিভক্ত এক অনন্য প্রদর্শনী, যা আয়োজনকারীদের পক্ষ থেকে ‘ত্রিমুখী উদ্বোধনী অনুষ্ঠান’ হিসেবে ভাবা হয়েছে।
প্রথম জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে। ঠিক এর পরই মাঠে গড়াবে উদ্বোধনী ম্যাচ, যেখানে অভ্যর্থক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ম্যাচ শুরু হলেও উৎসবের আমেজ শুরু হবে আনুমানিক দেড় ঘণ্টা আগে থেকে।
ফিফা প্রধান জিয়ানি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, উদ্বোধনী মঞ্চে লাতিন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রঙিন মিশ্রণ দেখা যাবে এবং সেখানেই উন্মোচন করা হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল মিউজিক অ্যালবাম। ইতোমধ্যে ফিফা নিশ্চিত করেছে যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন এক ঝাঁক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী — তালিকায় আছেন আলেহান্দ্রো ফের্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশন, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলিস, মানা ও থালিয়া। আয়োজকরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে আরও কিছু বড় নাম যোগ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ গত মে মাসে মুক্তি পেয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, উদ্বোধনী মঞ্চে নাইজেরিয়ার তারকা বার্না বয়ের সঙ্গে এই গানটি লাইভে পরিবেশন করবেন শাকিরা। শাকিরা আগে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের মঞ্চে তারকাস্বরূপ উপস্থিত থেকেছেন — বিশেষ করে ২০১০ সালে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ ও ২০১৪ সালে ‘লা লা লা’ দিয়ে তিনি ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে গিয়েছেন — এবারও তিনি আবারো বিশ্বকাপের প্রধান আকর্ষণের একজন হিসেবে সামনে আসছেন।
শুধু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নয়, ফাইনাল ম্যাচের হাফ-টাইম শো-তেও থাকছেন শাকিরা। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হাফ-টাইম শো-তে শাকিরা মঞ্চে থাকবেন এবং সেখানে তার সঙ্গে পারফর্ম করবেন উগান্ডার জনপ্রিয় শিশু নৃত্যদল ট্রিপলেটস গেটো কিডস।
তিন আয়োজক দেশের মধ্যে উদ্বোধনী পর্বের সূচনা করছে মেক্সিকো; পরের দিন কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকবে আলাদা বিশেষ উদ্বোধনী প্রদর্শনী। উৎসব সারা বিশ্বের ফুটবলের ভক্তদের কাছে একসঙ্গে মুগ্ধতা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছে — মঞ্চ থেকে মাঠ, এবং মাঠ থেকে পুরো বিশ্বজুড়ে উৎসবের রঙ ছড়িয়ে যাবে।





