শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্বর্ণের ভ্যাট কমছে ৭৮%: প্রতি ভরিতে ২,৫০০ টাকার প্রস্তাব

দেশে স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার কেনাবেচায় বর্তমানে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ধার্য করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি বিবেচনায় রেখে এই পদ্ধতি বদলে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফিক্সড ভ্যাট আরোপের দিকে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের সূত্র বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ভরি সোনার ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব আনা হতে পারে। একই সঙ্গে উৎসে করও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান বাজারে ২২ ক্যারেট মানের এক ভরি সোনার দাম প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার টাকা হওয়ায় ৫ শতাংশ হার অনুযায়ী প্রতি ভরিতে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার (প্রায় ১১,৪৫০) টাকা ভ্যাট দিতে হয়। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রতি ভরিতে ভ্যাট দাঁড়াবে ২ হাজার ৫০০ টাকায় — ফলে ভ্যাটের পরিমাণ প্রায় ৭৮.৫ শতাংশ কমে যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে এই খাত থেকে বছরে ১৫০ কোটি টাকারও কম ভ্যাট আদায় হয়। নির্ধারিত অঙ্কের ভ্যাট আরোপ করলে রাজস্ব আহরণ বাড়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও এ উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন; ফলে ফিক্সড ভ্যাট চালু হলে সকল পক্ষই উপকৃত হবে বলে তারা মনে করছেন।

সূত্রের আরও তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে প্রতি ভরিতে ৫ হাজার টাকার প্রস্তাব ছিল, কিন্তু স্বর্ণ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবিতে সেটি কমিয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করা হচ্ছে।

রেকর্ড অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সোনা বেচাকেনা থেকে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ১৩৮ কোটি টাকা। দেশে প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি দোকান রয়েছে; এদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাটে নিবন্ধিত, আর এর মধ্যেই নিয়মিত ভ্যাট দেয়া হয় প্রায় ১,৫০০ প্রতিষ্ঠান থেকে।

ভ্যাট পরিবর্তনের পাশাপাশি উৎসে করও কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে — বর্তমানে উৎসে কর ৫ শতাংশ, সেটি কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এনবিআরের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় ফিক্সড ভ্যাট আরোপের দাবি জানায় এবং ১৩ মে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠায়। বাজুস তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে যে নির্ধারিত ভ্যাট আরোপ করা হলে এই খাত থেকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আনা সম্ভব। ব্যবসায়ীরা আরও জানিয়েছে, ন্যূনতম ফিক্সড ভ্যাট থাকলে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় আসবে; আগে বাজুস ভরিপ্রতি ২ হাজার টাকার ফিক্সড ভ্যাট নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিল।

এনবিআরের প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে পরেই অনুচিত মূল্যায়ন ও চোরাচালানের ঝুঁকি কমে এবং ভ্যাট নেট বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে — তবে সিদ্ধান্ত কবে চূড়ান্ত করা হবে তা বাজেট ঘোষণার সময়ই স্পষ্ট হবে।