শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রস্তাবিত বাজেটে: বেসরকারি কর্মীদের অবসরে ৩০% গ্র্যাচুইটি

প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ফান্ডের আওতায় অবসরে মোট সঞ্চয়ের ৩০% পর্যন্ত গ্র্যাচুইটি বা এককালীন ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, এটি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেওয়া সিদ্ধান্ত। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে; যেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।

এই পেনশন স্কিমটি গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শুরু করা হয়েছিল। চারটি স্কিমে ৩০ মে পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ জন নিবন্ধন করেছেন। তহবিলে মোট জমা প্রায় ২৬০ কোটি টাকা এবং এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ২৮৬ কোটি টাকা।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান ৩ জুন এক পর্যালোচনা সভায় বলেন, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত শ্রমিক-কর্মীর বড় অংশই অবসর পর কোনও আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় নেই। সরকারি চাকরিজীবীরা সরকারি পেনশনের আওতায় থাকলেও বেসরকারি খাতে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, এই শূন্যতা পূরণে ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার অধীনে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি স্কিম’ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সভায় স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে কিছু উদ্যোগের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় — শারীয়াহভিত্তিক পেনশন চালু করা, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা করা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি।

প্রগতি স্কিমের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:

– বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে প্রণীত একটি পেনশন প্যাকেজ

– প্রতিষ্ঠান হিসেবে যোগ দিলে চাঁদার ৫০% কর্মী প্রদান করবে এবং বাকি ৫০% প্রতিষ্ঠান দেবে

– মাসিক চাঁদার পরিমাণ: ১,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা

– অবসরের পর আজীবন মাসিক পেনশন সুবিধা

– মাসিক চাঁদায় আয়কর রেয়াত এবং প্রাপ্ত পেনশন আয়করমুক্ত

– পেনশনারদের ৬০ বছর পূর্তির পর কর্পাসের সর্বোচ্চ ৩০% এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে দেওয়া হবে

– বিনিয়োগে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি

বয়স্ক নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট থেকে সর্বজনীন পেনশনের জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করা হয়। তবে ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর এই স্কিম নিয়ে জনমনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর পেনশন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যায়। প্রথমপর্যায় ‘প্রবাস’, ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’ নামে চারটি স্কিম চালু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘প্রত্যয়’ স্কিম চালুর চেষ্টা করলেও অংশীজনদের বিরোধিতার কারণে তা স্থগিত থাকতে হয়।

সরকারের উদ্দেশ্য হলো বেসরকারি কর্মীদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করা; প্রস্তাবিত বাজেটের বিধান মেনে সেটি বাস্তবায়িত হলে বহু কর্মীর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।