চব্বিশা বছরের অপেক্ষা নয় — ৪০ বছরেরও বেশি প্রত্যাশার অবসান মিরপুরে ঘটল বৃহস্পতিবার। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে ইতিহাস গড়ল মিরাজের দল; প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ। বোলারদের দৃঢ় মনোবল আর ব্যাটারদের ধৈর্য মিলিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হলো টাইগারদের ঐতিহাসিক অর্জন।
টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া এবং বৃষ্টির আগ পর্যন্ত ৪২ ওভারে তারা সংগ্রহ করে ১৮৭ রান। পরে বৃষ্টির কারণে overs কমিয়ে ডকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য় নির্ধারণ করা হয় ১৯২ রান। ব্যাটিংয়ে দলগত যোগসাজশ দেখিয়ে সেই লক্ষ্য কেটে গিয়ে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় পায় বাংলাদেশ।
অভিষেকের মতো শুরু করে অস্ট্রেলিয়া — কোনো রান যোগ না করেই তিন উইকেট হারানোর লজ্জাজনক ধাক্কা পান তারা। ওয়ানডে রাজ্যনায় ১০২৪টি ম্যাচ খেলে প্রথমবারের মতো শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর নজির রেকর্ডে এসেছে জশ ইংলিসের দলের নামে।
ইনিংসের শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন তাসকিন আহমেদ; টানা দুই ম্যাচে ম্যাথু শর্টকে আউট করে তিনি আগের ম্যাচের ফর্ম ধরে রাখেন। দ্বিতীয় ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান কুপার কনোলিকে লিটনের হাতে ক্যাচ করান এবং একই ওভারে ম্যাট রেনশোও ফিরে যান। ১৮তম ওভারে জশ ইংলিসকে বোল্ড করে তানভীর ইসলাম অজস্র চাপ সৃষ্টি করেন, ৮১ রানে আড়াই দলের ছন্দভঙ্গ হয়ে ছয় উইকেটে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এরপর জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি নিয়ে বেরিয়ে আসে, তবে তাসকিনের জোড়া বলের আঘাতে ৪২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর আট উইকেটে ১৮৭ রানে থেমে যায়।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন, তানভীর ইসলাম নেন দুইটি উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নামার পর প্রথম ওভারেই একটি ঝটকা খায় বাংলাদেশ — গুড লেন্থের বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে তানজিদ তামিম বোলারের হাতে ফেরেন। এরপর ওপেনিং জুটি সামলে নেন সৌম্য সরকার ও লিটন দাস না; তারা সঙ্গে মিলিয়ে ৮৬ রানের পতাকা উদ্ধার করেন। সৌম্য ৪২ রানে আউট হলে ৮৬ রানে দুই উইকেট হারানো দলের ওপর চাপ বাড়ে।
শান্তকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল আগায়ানো দু’জনের জুটিই ম্যাচের বাঁধন, কিন্তু ৯৮ রানে শান্তও ৪২ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়ার আগে একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন — দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে দুই হাজার রানের ক্লাবের সদস্য হন শান্ত, এবং এই দৌড়ে বাংলাদেশের হয়ে তিনি যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম খেলোয়াড়।
লিটনের মিরপুরে আবারো ভাগ্যসঙ্গ দোষখায়; দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এখনও ফিফটি করতে না পেরে আজও তিনি মেরেছেন ২১ রানে। কেমরুন গ্রিনের বাউন্সারে লিটনের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক ইংলিসের হাতে ক্যাচ জমা হয়।
ছয়ে নামা মোসাদ্দেক আলি শুরুতে আক্রমণাত্মক দেখিয়ে অ্যাডাম জাম্পার কাটা বোলারকে লক্ষ্য করে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকান, কিন্তু বেশি উচ্চবিলাসী শটে দুর্বলতা দেখিয়ে জাম্পা তাকে ফিরে পাঠান। ১৪৪ রানে ৫ উইকেটে পড়ে গেলে বাংলাদেশের ওপর আবারো টেনশন আসে।
তারপরই ভালো বলকে পুরস্কৃত করে এবং খারাপ বল থেকে বাউন্ডারি তুলতে সক্ষম হন মিরাজ ও হৃদয় পাটোয়ারী। শেষ পর্যন্ত হৃদয় অপরাজিত ৪০ ও মিরাজ অপরাজিত ২২ রানে থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন — হাতে থাকল ৩৬ বল ও ৫ উইকেট। এই জয়ে বাংলাদেশ অর্জন করল ইতিহাস: অস্ট্রেলিয়াকে চোখে চোখ রেখে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজে পরাজিত করা।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটি করে উইকেট নেন ক্যামরুন গ্রিন, ম্যাট রেনশো, অ্যাডাম জাম্পা, জেভিয়ার বার্টলেট ও রাইলি মেরেডিথ। বাংলাদেশের বোলিং একতা, লক্ষ্যমাত্রা ছুঁবার সময় ব্যাটিংয়ের সংযম— এই দুইয়ের সমন্বয়েই মিরপুরে বড় দিন কাটাল টাইগাররা।





