শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পর্দা উঠছে ৩৯ দিনের ফুটবল মহোৎসব — থাকছে এসব চমক

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন উত্তর আমেরিকার দিকে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা দূরে, শুরু হবে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ফিফা বিশ্বকাপ — যা তিন দেশকে ঘিরে এক ইতিহাসের নতুন অধ্যায় হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করছে; ৩৯ দিনব্যাপী এই উত্সবে অংশ নিচ্ছে মোট ৪৮টি দল, খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে ১৬টি ভেন্যুতে—মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্য দিয়ে ফাইনালটি অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।

উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় স্বাগতিক মেক্সিকো মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। এবারের বিশ্বকাপকে অনেকেই টুকরো টুকরো নয়, বরং সাংস্কৃতিক মিলনমেলা হিসেবে দেখছেন—কারণ তিনটি দেশ মিলে যেভাবে আয়োজন করেছে, তা টুর্নামেন্টটিকে আরও বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

ইতিহাসের নতুন মাইলফলকও আছে এ আসরে। আগে মেক্সিকো দুইবার (১৯৭০ ও ১৯৮৬) এবং যুক্তরাষ্ট্র একবার (১৯৯৪) বিশ্বকাপ আয়োজিত করেছে, কিন্তু কানাডার পক্ষে এ প্রথমবারের মতো এই বড় আয়োজনে সংগৃহীত হচ্ছে। তাছাড়া, একযোগে তিন দেশের মধ্যে ম্যাচ ও অনুষ্ঠান ভাগ করে নেওয়ার ফলে এটি ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত আয়োজনও বটে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলোয় রয়েছে বিশেষ অভিনবত্ব। এবার প্রথমবার তিনটি আয়োজক দেশে সমান্তরালভাবে উদ্বোধনী উৎসব হবে — প্রতিটি অনুষ্ঠানের সূচনা হবে সংশ্লিষ্ট দেশের উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে। যদিও প্রতিটি অনুষ্ঠান আলাদা রূপ ও সাংস্কৃতিক আঙ্গিক দেখাবে, পরে তারা একটি অভিন্ন বার্তা ছড়াবে: ফুটবল ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলে।

এই সৃজনশীল পরিকল্পনার নেতৃত্বে রয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ইভেন্টের সুপরিচিত প্রযোজক মার্কো বালি। বালির ভাষ্যে, ‘প্রতিটি দেশের নিজস্ব ঐতিহ্য ও পরিচয় তুলে ধরা হবে, কিন্তু সারকেন্দ্র হবে ফুটবলের ঐক্যের শক্তি।’ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও বলেছেন, ‘উদ্বোধনী মুহূর্তটি বিশ্বব্যাপী একসঙ্গে উদযাপন করা হবে—সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও ফুটবল মিলবে একাত্মে।’

উৎসবকে আরও আমেজ যোগ করতে তাতে অংশ নিচ্ছেন আন্তর্জাতিক তারকারা। মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছেন শাকিরা, জে বালভিন, মানা ও লিলা ডাউনস। টরন্টোতে কানাডার অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাবেন আলানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, এলেসিয়া কারা, জেসি রেইজ, নোরা ফাতেহি ও সঞ্জয়—কানাডার মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে এটি দেশটির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দর্শকরা দেখতে পাবেন কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, এলএল কুল জে এবং রেমার মতো শিল্পীদের শো; আধুনিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় দর্শকদের জন্য তৈরি করবে একটি আলাদা অভিজ্ঞতা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলোর দৈর্ঘ্যও নির্ধারিত—মেক্সিকো সিটির শো চলবে প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড, আর টরোন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের শোগুলি হবে প্রায় ১৩ মিনিট করে। অনুষ্ঠানগুলোর পরেই খেলোয়াড়দের ওয়ার্ম-আপ, প্রি-ম্যাচ আনুষ্ঠানিকতা এবং দিনটির মূল আকর্ষণ কিক-অফ শুরু হবে।

৩৯ দিনের এই ফুটবল মহোৎসব কেবল খেলা নয়; এটি সংস্কৃতি, আবেগ এবং বৈশ্বিক ঐক্যের এক বড়ো উদযাপন। আগামী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন লয় পাবে ফুটবলের ছন্দে—আর প্রতিটি মঞ্চে মেলে নতুন গল্প, নতুন মুহূর্ত ও নতুন আনন্দ।