সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ধানমন্ডিতে হাসপাতালে ৮ তলা থেকে ঝিলিকের মৃত্যু; স্বামীকে এক দিন রিমান্ড

ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আট তলা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যুর মামলায় তার স্বামী সাফি উল্লাহ ওরফে মহব্বত (৪৫)কে এক দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী আব্দুল মান্নান আসামিকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পেশ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এজাহারভুক্ত বিষয়গুলো তদন্ত করে আসামিকে দায়মুক্ত করা বা উদ্ধার করার সম্ভাবনা দেখতে চান বলে রিমান্ড চান। আসামিপক্ষের আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানির পর বিচারক আসামিকে এক দিন রিমান্ডে নিতে নির্দেশ দেন।

ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার দুপুর ২টা ২২ মিনিটে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আট তলার ৮১৩ নম্বর কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা দিয়ে ঝিলিক লাফিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরদিন শনিবার ঝিলিকের বড় ভাই মোজাম্মেল হক ধানমন্ডি মডেল থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ হাসপাতাল থেকে সাফি উল্লাহকে গ্রেফতার করে।

এজাহারে বলা হয়েছে, ১০ জুন ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সাফি উল্লাহ’র তীব্র পেটে ব্যথা শুরু হলে ঝিলিক ও তার ভাই মোজাম্মেল তাঁকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরীক্ষার পর চিকিৎসক পরামর্শ দেন এবং ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইবনে সিনা হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাফি উল্লাহকে ভর্তি করে চিকিৎসার পরামর্শ দেন, কিন্তু সেখানে কেবিন খালি না থাকায় তাকে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আট তলার ৮১৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। ঝিলিকই হাসপাতালে অবস্থান করে তাকে দেখাশোনা করছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সাফি উল্লাহর বোন, ভগ্নিপতি ও তাদের ছেলে হাসপাতালে এসে তাঁকে দেখেন। সুস্থ হওয়ায় সকাল ১০টার দিকে সাফি উল্লাহকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। দুপুর সওয়া একটার দিকে ঝিলিকের সঙ্গে তার ছোট বোন রেশমি আক্তারের ভিডিও কল হয়। সাড়ে দুই ঘণ্টা যেতে না যেতেই সাফি উল্লাহ ঝিলিকের বাবাকে ফোন করে জানান যে ঝিলিক কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা দিয়ে পড়ে গেছেন এবং তিনি মারা গেছেন।

বর্তমানে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগে উল্লেখিত ধারায় জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। আদালত বর্তমানে আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন, ফলে তদন্তকারীরা তার বিরুদ্ধে থাকা জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় জটিলতা পর্যালোচনা করতে পারবেন।