রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আট তলা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনায় আদালত তাঁর স্বামী সাফি উল্লাহ (ওরফে মহব্বত, ৪৫)কে এক দিন রিমান্ডে রাখার আদেশ দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম আজ এই রিমান্ডাদেশ দেন।
ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক কাজী আব্দুল মান্নান আসামিকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত সরকারী আবেদন অধীন ওই আসামিকে এক দিনের জন্য রিমান্ডে নিতে অনুমতি দেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত শুক্রবার দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে। পুলিশ ও হাসপাতালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আট তলার ৮১৩ নম্বর কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা থেকে ঝিলিক পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। মৃত্যুর পরে ঝিলিকের বড় ভাই মোজাম্মেল হক ধানমন্ডি মডেল থানায় আসামীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ করে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ হাসপাতাল থেকেই সাফি উল্লাহকে গ্রেফতার করে।
এজাহারে বলা হয়েছে, সাফি উল্লাহর তীব্র পেটব্যথা দেখা দিলে ঝিলিক ও তাঁর ভাই মোজাম্মেল হক গত ১০ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে তাকে দ্রুত ভর্তি করান। পরীক্ষার পর চিকিৎসক পরামর্শ দেন তাকে আরও বড় হাসপাতালে নেয়া উচিৎ। ওই পরামর্শ অনুযায়ী ভোর সাড়ে ৬টায় সাফিকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইবনে সিনা হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকের পরামর্শে ভর্তি করার কথা বলা হলেও সেদিন সেখানে খালি কেবিন না থাকায় তাকে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮১৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। ঝিলিক সেখানে তার স্বামীকে দেখাশোনা করতেন।
পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই শুক্রবার সকালে সাফি উল্লাহকে দেখতে তার বোন, ভগ্নিপতি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হাসপাতালে আসেন। স্বাভাবিক অবস্থায় থাকায় সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। দুপুর সোয়া একটার দিকে ঝিলিক তার ছোট বোন রেশমি আক্তারের সঙ্গে একটি ভিডিও কল করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর সাফি উল্লাহ ঝিলিকের বাবা কে ফোন করে বলেন যে ঝিলিক কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা থেকে পড়ে গেছেন এবং তিনি মারা গেছেন।
ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালত রিমান্ডে পাঠানো আসামি ও মামলার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখার জন্য কড়াকড়ি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছে।





