মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্পের দাবি: ইরানসহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘পুরোপুরি সই হয়ে গেছে’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে করা বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তি ‘‘পুরোপুরি স্বাক্ষরিত’’ হয়ে গেছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার (১৫ জুন) ফ্রান্সে পৌঁছে ইভিয়ান-লে-বাঁ শহরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক যৌথ ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প এই দাবি করেন। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি পুরোপুরি সই হয়ে গেছে এবং হরমুজ প্রণালির একটি অংশ ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে; আগামী শুক্রবারের মধ্যে পুরো প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে।

রয়টার্স জানায়, যদিও ট্রাম্প চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা বলেছেন, পূর্বস্তরে দুই পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে— শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এই চুক্তিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করা হবে। ওই অনুষ্ঠানে নিজের উপস্থিতির বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘‘শুক্রবার সই অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন কিংবা নাও থাকতে পারেন’’; তবে শিগগিরই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

ট্রাম্প আরও জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র ধারণ করতে পারবে না, এবং তেহরান তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পূরণ না করা পর্যন্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না।

চুক্তির প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো। এই ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা উৎসাহিত করা হবে।

এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে খবর পাওয়া গেছে, ওই সমঝোতা স্মারকে ইতোমধ্যেই ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার তথা প্রধান আলোচক বাগের গালিবাফের স্বাক্ষর রয়েছে। সূত্রটি বলছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাদি প্রকাশ করা হতে পারে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যদি ইরান চুক্তির সব শর্ত মেনে চলে এবং পারমাণবিক উপকরণ ত্যাগ করে, তাহলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অর্থায়নে গঠিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিলের সুবিধা পাবে ইরান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, চুক্তির স্থায়িত্ব বেশ অংশেই নির্ভর করবে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতির উপর। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়া এবং ইসরায়েলের লেবাননে অভিযান—এ সবকিছুই ইরানের সঙ্গে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। ইরানের তরফে বলা হয়েছে, প্রাথমিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ থাকতে হবে; যদিও চুক্তির খবরে দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের তীব্রতা কিছুটা কমেছে, তা পুরোপুরিভাবে থামেনি।

একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী জাহাজ-নির্মাতা ও মালিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের উপর আরোপিত বন্দর অবরোধ এখনও পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি। চুক্তির আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অঞ্চলে অস্পষ্টতা বজায় থাকতে পারে।