স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকায় তার দুই ছেলের নামে নতুন দুটি ইউনিয়ন নামকরণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা সমালোচনার প্রেক্ষিতে আজ (সোমবার) জাতীয় সংসদে ২৭৪ বিধির আওতায় ব্যক্তিগতভাবে ব্যাখ্যা দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই ও গণশুনানির ভিত্তিতে অনুৎপাদিত ভাবেই নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারিত হয়েছে; তা তার সন্তানদের নামে নয়।
সংসদে আগে জামায়াতের সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এই বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, মীর শাহে আলমের এলাকায় একটি ইউনিয়ন ‘মীরবাড়ি’ নামে রাখা হয়েছে এবং তাঁর দুই সন্তানের নাম — দিগন্ত ও সীমান্ত — মিলে আরও দুটি ইউনিয়ন নামকরণ করা হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী আগে একসময়ের এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে উল্লেখ করে বলেন, মন্ত্রীরা রাষ্ট্রনেত্রীর সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত।
জবাবে সংসদে মীর শাহে আলম বলেন, নবগঠিত মোকামতলা ইউনিয়নের অন্তর্গত সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদ ছিলেন আকারে বড়; প্রশাসনিক সুবিধার কারণে সেটি ভেঙে নতুন ইউনিয়ন করা হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার ওপর ভিত্তি করে একটিকে ‘সীমান্ত’ নামকরণ করা হয়েছে এবং গাইবান্ধা জেলার সীমান্তবর্তী ও মূল কেন্দ্র থেকে দূরে থাকা দেউলী অংশ থেকে নতুনভাবে ‘দিগন্ত’ নামে একটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেউলী ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন হয়নি; এটি ভেঙে নতুন একটি ইউনিয়ন গড়া হয়েছে যার নাম ‘দিগন্ত’।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সংযোগের মিলটি কেবল বাস্তববিরল একরকম সংমিশ্রণ—তার সন্তানদের প্রকৃত নাম মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত হলেও যদি তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করতেন, তখন জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করে নতুন নামের আগে ‘মীর’ সংযোজন করতেন; কিন্তু নতুন ইউনিয়নগুলোর নামের কোথাও ‘মীর’ নেই।
সরকারি দলের সদস্যরা সংসদে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে টেবিল ধাক্কার মাধ্যমে সমর্থন ও প্রশংসা জানান। ক্ষুদ্র রসিকতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি ছাত্র বা ব্যাক্তিগতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক বলেও কেউ বলেননি — যেমন বিজিবির ‘সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড’ বা ‘সীমান্ত এক্সপ্রেস’ ট্রেন তাঁর নয়। তিনি গুলশান-১ এর ‘দিগন্ত টাওয়ার’ বা ‘দিগন্ত টেলিভিশন’ও নিজের বলে দাবি করেননি বলে উল্লেখ করেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘দিগন্ত’ ও ‘সীমান্ত’ নামে বহু প্রতিষ্ঠান ও এলাকা আছে—এর একটি তালিকাও সংসদে উপস্থাপন করেন।
বিরোধী দলে থেকেও একজন সংসদ সদস্য মন্তব্য করেন যে দেশের নানা জায়গায় এই নামে নামকরণ রয়েছে; তাই কেন এ ঘটনাকে সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর সন্তানদের সঙ্গে জড়ান হয়েছে, তা তিনি বিস্ময়ে উল্লেখ করেন।
বক্তৃতা শেষ করে মীর শাহে আলম স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান, ভিত্তিহীন ও ব্যক্তিগত ভাবেই হেয় করার যে অভিযোগ তুলেছে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে প্রত্যাহার করতে যাতে হয়। 이에 স্পিকার রুলিং দিয়ে জানান, প্রতিমন্ত্রী নিজে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিয়েছেন, তাই বিরোধী দলের বক্তব্যও নথিভুক্ত থাকবে এবং প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যাও সংরক্ষিত থাকবে। তবে সংরক্ষিত বক্তব্যগুলো পরীক্ষা করে দেখা হবে; যদি কোনো অসংসদীয় বা অবমাননাকর শব্দ থাকে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেয়া হবে।





