একটি আন্তর্জাতিক সংবাদনির্ভর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) দেখার অনুরোধ করেছিল ইসরায়েল, কিন্তু সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে বলা হয়নি নথিটির পূর্ণ বিবরণ কী—ফলে ইসরায়েল এখনও চুক্তি সম্পর্কে অন্ধকারেই রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তথ্যটি প্রথমভাবে প্রকাশ করেছে তুর্কি সংবাদসংস্থা আনাদোলু, যা ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে সূত্র ধরে এই খবর জানিয়েছে। চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, তেল আবিব ওয়াশিংটনের কাছে সমঝোতা স্মারক দেখার সুযোগ চাইতে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ নাকচ করেছে।
তবে আনাদোলু সূত্র আরও এক অনুচ্ছেদে জানায় যে, একটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে—তেল আবিব আসলে আলোচক দলের কাছে ‘এ ধরনের কোনো অনুরোধই করেনি’। অর্থাৎ এতে ভিন্ন দুটি বিবৃতির সংযোগ দেখা গেছে।
আনাদোলুর প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় এক মার্কিন কর্মকর্তা এই খবরকে ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনার পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে ওয়াশিংটন তার আঞ্চলিক অংশীদারদের, বিশেষত ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখেছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি চুক্তির নথির ‘প্রতিটি শব্দ’ নিজে পর্যালোচনা করবেন। তবে নথির পূর্ণ পাঠ কখন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা দেননি।
চ্যানেল ১২ জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্পর্কিত এই সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক পাঠ প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যম সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, স্মারকটিতে মোট ১৪টি ধরার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানি মিডিয়ার দ্বারা জানানো ঐ ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে: দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হর্মুজ প্রণালীতে নৌপরিবহনে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরানের পুনর্গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
এখনও পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরান কোনো পক্ষই স্মারকটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করেনি। ফলে চুক্তির চূড়ান্ত বিবরণ ও তার প্রভাব সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। (সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি)





