শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় জাহের আলভী কারাগারে

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভী (ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া) এক মামলায় আত্মসমর্পণ করে বিচারিক আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন—তবে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের কক্ষে আত্মসমর্পণ করে আলভী ও তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। আলভী আদালতে পৌঁছান আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে, শুনানি শুরু হয় দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে এবং আদালত শেষ শুনানি শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে সশরীরে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে আলভীর পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া সহ তার আইনজীবী দল। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জামিন খারিজ করে অভিযুক্তকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানোর দাবি জানান এবং তাদের যুক্তি মেনে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।

আলভীর জামিন আবেদনে তিনি এবং তার পক্ষে বলা হয়েছিল যে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়, ওদের বিয়ে ছিল স্বেচ্ছাইভিত্তিক (প্রেমের বিয়ে) এবং বাদী ব্যক্তিগত জিদ ও প্রতিহিংসার কারণে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের দাবি, এজাহারে জাহের আলভীর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই এবং ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার সময় (২৫ ফেব্রুয়ারি) আলভী নেপালে নাটক নির্মাণের কাজে ছিলেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ডিওএইচএসে তাদের বাসা থেকে ইকরা (আফরা ইবনাত ইকরা) সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবার সদস্যরা দ্রুত তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ায় ডাক্তাররা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই রাতেই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান মামলা দায়ের করেন এবং অভিযোগ করেন যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ফলে তার মেয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্তে বাধ্য হয়েছেন।

জাহের আলভী ও ইকরা ২০১০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন; তাদের এক ছেলে রয়েছে। মামলার প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, গত ৪ জুন আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন।

এই সিদ্ধান্তের পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম, তদন্ত ও আদালতের আগামী নির্দেশনার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষরা অপেক্ষায় রয়েছে।