শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হরমুজ সংকটে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন

হরমুজ প্রণালিতে চলছে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন মিলেছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে তিন কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল। তবে মন্ত্রিসভা কমিটি আংশিক অনুমোদন দিয়ে ওই প্রস্তাব থেকে দুই কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, তিন কার্গো এলএনজি ক্রয়ের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল প্রায় ২ হাজার ১১২ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৪ টাকা (এআইটি-সহ)। অনুমোদিত দুই কার্গোর আমদানিতে মোট খরচ হবে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ সচক জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকটের ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়ে সব চালান পাচ্ছে না বাংলাদেশ। যুদ্ধপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চুক্তির ‘ফোর্স মেজর’ ধারা প্রয়োগ করায় নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুন ও জুলাইয়ের প্রথম দিকে দেশের তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছতে এবং খালাস করতে সময় লাগে। তৃতীয় কার্গো কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া হয়নি; আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় পরিস্থিতি কয়েক দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কোনো চালান সময়মতো দেশে পৌঁছে যায় অথবা বাজারের পরিস্থিতি আরও উন্নত হয়, তাহলে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো যাবে।

সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের দিকটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। এজন্য একটি কার্গো নিয়ে অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে ক্রয়ের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত সূচক ও সাম্প্রতিক কয়েক মাসের গড় দাম বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়।

শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব আশা প্রকাশ করেছেন যে ধীরে ধীরে সংকট স্থিতিশীলতার দিকে যাবে, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থাকে নতুন করে পর্যালোচনারও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সরকারের মনোযোগ এখন তাৎক্ষণিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমানো—এই দুই দিকেই কেন্দ্রীভূত থাকবে।