জামায়াতে ইসলামের আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় নিয়োগ করে একদলীয় শাসনের দিকে এগোচ্ছে। শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে এসব দাবি করেন তিনি। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার। সভায় কেন্দ্রীয় ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ থেকে শুরু করে ইসলামী ব্যাংকের ওপর ‘‘কালো হাত’’ তোলা, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ভিসি নিয়োগ এবং জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দলের লোক ও ক্যাডার বসিয়ে সরকার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার স্বভাব দেখাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলেন, কিন্তু সেটি টেকেনি—আজ সেটাই হচ্ছে বলে দলের দৃষ্টিতে সরকারের চলাচল উদ্বেগজনক।
সম্মেলনে ডা. শফিক ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ঐ ঘটনাকেই কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সেই ঘটনা না হলে ২০২৬ সালের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। তিনি শহীদদের সম্মান জানান ও অনুরোধ করেন যে ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের শহীদদের কেউই ছোট করে দেখা হবে না।
বক্তা আরও অভিযোগ করেন, গত নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি, সন্ত্রাস ও ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। সেসবের পরও ১১ দফা জোটকে একটিমাত্র আসন পাওয়া সম্ভব হয়েছে; ভোটের রেজাল্ট সুষ্ঠুভাবে গণনা হলে আরও আসন জয় সম্ভব ছিল বলে তিনি মনে করছেন।
ডা. শফিক দুই যুগের বেশি সময় ধরে দেশের স্বৈরাচারী অবস্থার কথাও উল্লেখ করে বলেছেন, জনগণের রায় ও গণভোটে তাদের অবস্থান স্পষ্ট ছিল। তিনি বর্তমান সরকার এবং সরকারের দলে সংশ্লিষ্ট নেতাদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতিবিদদের প্রতি জনগণের সম্মান বজায় রাখতে হলে এসব আচরণ পরিবর্তন জরুরি।
সভায় আরও বলা হয়, সরকার গঠনের আগে ও পরে চাঁদাবাজি, ঘুষ আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি; বরং এসব প্রবণতা বাড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলের পরিবর্তে কিছু গোষ্ঠীর বা ব্যক্তির ভাগ্য বদল হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
নারায়ণগঞ্জকে নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, একসময়ে এই জেলা ‘‘প্রাচ্যের ড্যান্ডি’’ নামে পরিচিত ছিল, কিন্তু এখন গৌরব হারিয়েছে এবং কখনো সন্ত্রাসের নগরী হিসেবে নামও ওঠে। তিনি তরুণ ত্বকী হত্যাসহ অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এসব হত্যা-ঘটনার ন্যায্য বিচার কি সম্পন্ন হয়েছে—এ প্রশ্ন রয়ে গেছে। নতুন কোনো গডফাদার বা চাঁদাবাজের উত্থান কাম্য নয় বলে তিনি জোর দেন।
সভায় তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন—অনেক ব্যবসায়ী চাঁদাবাজি ও দমনদাসীদের ভয়ে কথা বলারও সাহস পান না। এতে এলাকার অর্থনীতিও প্রভাবিত হচ্ছে, মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিক সরকারকে সতর্ক করে বলেন, এখনই সময় আছে—জনগণের রায় বাস্তবায়ন করে সব সংস্কার প্রস্তাব কার্যকরি করতে হবে। নয়তো জনগণ সরকারের সামনে শক্ত প্রতিরোধ হিসেবে দাঁড়াবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়া তিনি দাবি তুলেন, নারায়ণগঞ্জে অনির্বাচিত প্রশাসকরা সরিয়ে দেওয়া এবং দ্রুত প্রশাসনিক নির্বাচন বাস্তবায়ন করতে হবে।
শেষে জামায়াত আমির নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর অনির্বাচিত প্রশাসক অপসারণ করে অনতিবিলম্বে নির্বাচন দাবি করেন এবং ঘোষণা করেন যে আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এখান থেকে প্রার্থী দেবে। তিনি শহরের বর্তমান মহানগর আমির আব্দুল জব্বারকে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণা করেন এবং প্রতিটি ২৭টি ওয়ার্ডে জনগণের সেবা করতে সক্ষম প্রার্থী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।





