ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং বিদেশে আটকে থাকা তেহরানের কিছু বাজেয়াপ্ত সম্পদ ছাড় করা হয়েছে। তিনি এসব কথা বলেছেন সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক শেষে রোববার (২১ জুন)।
আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরানের জন্য ‘একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা’ হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বা তাঁর পোস্টে ওই বাজেয়াপ্ত সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ বা ওই পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। এ বিষয়ে এখনো হোয়াইট হাউস মন্তব্য করেনি।
ইরানের আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানি প্রতিনিধি দলের অর্থনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হোসেইন গোরবানজাদেহ জানিয়েছেন, তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এ ঘোষণা সম্পর্কেও অফিশিয়াল পুরো বিবরণ প্রকাশ হয়নি।
আরাঘচি তার এক্স হ্যান্ডেলে আরও লিখেছেন, পাকিস্তান ও কাতারকে মধ্যস্থতাকারী করে লেবাননে যুদ্ধ অবসানে বড় অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেছেন, লেবাননে ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠন এখন তাদের সামনে ‘প্রথম প্রকৃত পরীক্ষা’ হবে।
মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সেল গঠনে একমত হয়েছে। তারা বলেছে, ডি-কনফ্লিকশন সেল লেবাননে সামরিক সংঘর্ষ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কাতার ও পাকিস্তান যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ হওয়া এবং এতে ‘আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি’ লক্ষ্য করা গেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যস্থতার ওপর রাজনৈতিক নজরদারি বজায় রাখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্মত হয়েছে। প্রধান আলোচকরা নিয়মিতভাবে সেই কমিটিকে রিপোর্ট করবেন। পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপও গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, ওই কমিটি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রূপরেখায় একমত হয়েছে। সেজন্য এই সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সুইজারল্যান্ডে ‘সমস্ত’ অমীমাংসিত ইস্যুতে কারিগরি আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছে দূতিরা।
সংক্ষেপে, ইরানি কোমরের দাবি ও মধ্যস্থতাকারীদের বিবৃতিতে আলোচনা ও অগ্রগতির কথা উঠলেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদের মুক্তি—দুটোরই আনুষ্ঠানিক, স্বাধীন যাচাই এখনও পাওয়া যায়নি। বিষয়গুলোতে আলোচনা এবং কারিগরি কর্মপন্থা চলমান রয়েছে।





