মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিন্ধু পানিকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন খাজা আসিফ

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, সিন্ধু নদীর পানিদাতা চুক্তি ও পানি সুরক্ষা নিয়ে যদি ভারত আপত্তি অব্যাহত রাখে, তাহলে প্রয়োজনে সেই ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের পথও বেছে নেওয়া হতে পারে। তিনি এই মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানি টিভি চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে।

খাজা আসিফ বলেন, “পানি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। আমরা যদি অনুভব করি যে আমাদের পানির নিরাপত্তা গুরুতরভাবে হুমকির মুখে পড়েছে, সেই মুহূর্তেই আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব — নিশ্চয়ই।” তিনি আরও জানান, যদি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় যে ভারত সিন্ধু নদে পানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে ‘উদ্বেগজনক গতিতে’ কাজ করছে, তবেই পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।

পটভূমি হিসেবে বলা প্রয়োজন, হিমালয়ের কৈলাস পর্বতের বোখার-চু হিমবাহ থেকে উৎপন্ন সিন্ধু নদটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে প্রবাহ করে আরব সাগরে মিলিত হয়। সিন্ধু ও এর ছয়টি উপনদীর পানি ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ দুই পার্শ্ববর্তী পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে বিবাদ রয়েছে।

এই বিরোধ মীমাংসার জন্য ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ‘ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি’ স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় কৌশলে বোঝানো হয়েছিল পূর্বাঞ্চলের তিন নদ—ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রুকে ব্যবহার করার অধিকার দেওয়া হয়েছে ভারতকে, আর পশ্চিমাঞ্চলের তিন নদ—সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাবের অধিকাংশ পানির ব্যবহার পাকিস্তানকে দেয়া হয়েছে। চুক্তিতে কোনো দেশ একতরফাভাবে তা বাতিল বা স্থগিত করার নিয়ম নেই।

তবে ২০২৫ সালে ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগাঁওয়ে ভারতের পর্যটকদের ওপর জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর নয়াদিল্লি ওই ট্রিটিটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়, এবং তখন থেকে তা প্রত্যাহার করা হয়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে।

এই বিষয়ে পাকিস্তান সরকার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, কারণ সিন্ধু পানির নিরাপত্তা দেশটির নীতিগত ও নিরাপত্তাজনিত বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগযুক্ত। (সূত্র: এআরওয়াই নিউজ, এনডিটিভি অনলাইন)