বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মুখ ঢেকে কথা বলায় লালকার্ড—মিগেল আলমিরনকে এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা

চলতি বিশ্বকাপে চালু হওয়া নতুন নিয়মেই প্রথমবার লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞার শিকার হলেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরন। ফিফা মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে, তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে মুখ ঢেকে কথা বলার ঘটনায় আলমিরনকে এক ম্যাচের জন্য মাঠের বাইরে রাখা হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

নিয়ম অনুযায়ী, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে কোন খেলোয়াড় যদি মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষ বা রেফারির কাছ থেকে কথাবার্তা আড়ালে রাখার চেষ্টা করে, তা শাস্তিযোগ্য আচরণ হিসেবে দেখা হবে। ম্যাচ কর্মকর্তারা আলমিরনের ঘটনাটি গুরুতর বিবেচনা করে তাকে লাল কার্ড দেখান—এটাই নতুন নিয়ম প্রয়োগে প্রথম ঘটনা।

ঘটনা ঘটে তুরস্ক ম্যাচের সময়। প্যারাগুইয়ান দলটির নাম্বার ১০ হিসেবে খেলানো আলমিরন কোনো প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথোপকথনের সময় একহাত মুখে টেনে কথা বলেছেন, যা সঙ্গে সঙ্গেই তুরস্ক দলের নজরে আসে এবং তারা রেফারির কাছে অভিযোগ করে। ম্যাচ সম্প্রচারকারীরা ঘটনাটিকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। আলমিরনের কারণে প্যারাগুয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ১০ জনের দলে পড়ে গেলেও ম্যাচে তাদের আগের নজরকাড়া কাজই ফল দিল—মাতিয়াস গালারজার ৬৪ সেকেন্ডে করা দ্রুততম গোলে প্যারাগুয়ে সময় early lead ধরে রেখে জয় পেয়েছে।

দুই ম্যাচ শেষে ডি গ্রুপে প্যারাগুয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে; সমান পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আছে দ্বিতীয় স্থানে। আগামী সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার ম্যাচটি গ্রুপ থেকে নকআউট পর্যায়ে যেতে পারেন এমন দলের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ফিফা জানিয়েছে, খেলোয়াড়রা মাঠে কথা কাটাকাটির সময় লিপ রিডিং রুখতে আচরণগতভাবে মুখ ঢেকে রাখা চালিয়ে আসত। তবে চলমান বিশ্বকাপের আগে ফিফা এই কাজটি পূর্বেই সীমিত করে দিয়েছে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে লাল কার্ড প্রদানের কথা বলা হয়েছিল। এই নিয়মটি সব পরিস্থিতিতেই বাধ্যতামূলক নয়, তবে টুর্নামেন্ট আয়োজকরা প্রয়োজনে এটি প্রভাবক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এসএনটিভি‑কে বলেছিলেন, মুখ ঢেকে কথা বলা প্রতিপক্ষের প্রতি অসম্মানের পরিচায়ক—এই নিয়ম প্রস্তাব ও প্রয়োগের উদ্দেশ্যই হলো পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা। তার কথায়, ‘‘আপনার যদি লুকানোর মতো কিছু না থাকে, আপনি মুখ ঢেকে কথা বলবেন না। নিয়মগুলো সবার কাছে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।’’

এই ঘটনার পর থেকে লিপ রিডিং ও ম্যাচে স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা নতুন করে জোরালো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব বজায় রাখতেই ফিফা‑র নীতি প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।