ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না থাকলেও দেশের মানুষ ওই টুর্নামেন্টে বাঁচে — এমনটাই বোঝাচ্ছে বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের উন্মাদনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে ছোট অলিগলি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, মিছিল এবং বিশাল পতাকা দেখা যায়; এই সব দৃশ্য এখন ডিজিটালের দরুন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও বাংলাদেশের এই ফুটবল উন্মাদনা গুরুত্ব সহকারে কভার করে। চলমান বিশ্বকাপেও সারাদেশ ফুটবল জ্বরে কাঁপছে। এ সময়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলা দেখার গণজমায়েতের ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে ব্রাজিল তারকা নেইমারের টিমের পেজে, যা স্থানীয় উৎসাহকে ভালো করে তুলে ধরেছে।
সম্প্রতি ফিফার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস নিয়ে একটি পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টে বাংলায় ক্যাপশন ছিল, ‘বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দেখে না, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে বাঁচে’। এই কথাটা অনেকাংশে বাস্তবের কাছাকাছি মনে হচ্ছে—কারণ এখানে খেলা দেখার আনন্দ কেবল দুরত্ব বা দলের অনুপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়।
বাংলাদেশে মূলত দুই দলের প্রতি ভক্তির ধারা সবচেয়ে বেশি—আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল। ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক কারণে এই দুটো লাতিন আমেরিকান দেশের সঙ্গে সরাসরি কোনো গভীর সম্পর্ক না থাকলেও ভালোবাসা ও আকর্ষণ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বলা হয়, শুধুই ‘ভালোবাসা’ শব্দটা এই অনুভূতিকে পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না।
বিশ্বকাপ হল সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক স্পোর্টস উৎসব; আর ডিজিটালের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্যান ক্লাবের উল্লাস এখন হাজার মাইল দূরে বসে থাকা খেলোয়াড় ও ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হচ্ছে।
ইতিহাসও বলছে—বাংলাদেশে প্রথমবার টেলিভিশনে বিশ্বকাপ দেখানো হয় ১৯৮৬ সালে; তখন কেবল নকআউট পর্বের খেলা সম্প্রচার করা হয়েছিল। অনেক পুরনো ফুটবলপ্রেমীর কথায়, সেই সময় থেকেই দেশে বিশ্বকাপ সম্পর্কে উন্মাদনার সুর চড়তে থাকে। আজ সেই উন্মাদনা আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে আরও ব্যাপক ও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।





