প্রায় ২২ বছর পর সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে অনুষ্ঠিত এক রাজনৈতিক জনসভায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সুরকার বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এই রায় দেন।
রায়ে বর্তমান প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ মোট ৯ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন নিশ্চিত করেছেন। মামলার একমাত্র দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ ওরফে নিমুকে hingegen মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার দিন সকালে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গউছসহ মূল আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী মোট ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে এবং ৭ এপ্রিল বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৩৪২ অনুযায়ী আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করেছিলেন। ওই সময়ে আরিফুল, জি কে গউছ ও লুৎফুজ্জামান বাবর নিজে-নিজে নির্দোষ দাবি করেন।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, মামলার দুই আসামি—জেএমবি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী ও বিপুল—অন্যান্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণে তাদের বিরুদ্ধে এই মামলার বিচারের কার্যক্রম আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে। পলাতক অবস্থায় থাকা মাওলানা তাজ উদ্দিনসহ নয় জনকেও বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন জেএমবি নেতা মহিবুল্লাহ (মফিজুর রহমান), মুফতি মঈন উদ্দিন (আবু জন্দাল), আব্দুল মাজেদ ভাট (ইউসুফ ভাট) ও নাজিউর রহমান নাজু প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের ওই জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সভায় তখনকার সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রধান অতিথি ছিলেন। হামলায় একটি যুবলীগ নেতা নিহত হন এবং কমপক্ষে ২৯ জন আহত হন। তদন্তে উঠে আসে, সুরঞ্জিতকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ জানানো হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল ও অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনায় আদালত এই রায় দিয়েছে।





