ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শারিফ ওসমান হাদির হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকা বিভাগীয় আদালত মামলাটি ১৭তমবারের মতো পিছিয়ে ১৫ জুলাই ফের শুনানির জন্য ধার্য করেছেন।
রোববার (২৮ জুন) তদন্ত সংস্থা সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা, ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা না দিতে পারায় এ দিন ঢাকা এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি ১৫ জুলাই ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাদির বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তৎকালীন সময়ে ইনকিলাব মঞ্চ অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় বলে জানায় এবং পরবর্তীতে মামলাটির অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।
রাতের ঘটনার পর থেকে মামলার সময়রেখা তাৎপর্যপূর্ণ: গত ১২ জানুয়ারি অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন। অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে বাদী আদালতে নারাজি দাখিল করেন; এরপরই মামলাটির তদন্ত সিআইডি-কে দেয়া হয়।
হাদি সম্পর্কে সংসদীয় প্রত্যাশা ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটও এই ঘটনায় গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি জুলাই আন্দোলন ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্যে পরিচিত ছিলেন এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নেয়ার ঘোষণা করেছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগে যাওয়ার সময় বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় পিছন থেকে আসা মোটরসাইকেলের আরোহীরা তাকে গুলি করে। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়; রাতেই তাকে এভারকেয়ারে স্থানান্তর করা হয় এবং দু’দিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
গোলযোগ ঘটার পর ১৪ ডিসেম্বর বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলায় ৩০২ ধারাও যুক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে থানার তদন্তের পরে মামলার তদন্ত ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ প্রতিবেদনভিত্তিক বলেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে প্রাথমিকভাবে বোঝা যায় যে হত্যাটি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ কারণে প্ররোচিত। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয় যে আসামিরা আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়-ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে হাদির নির্বাচনি প্রচারণায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অনুপ্রবেশ করে।
ডিবি পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে অভিযুক্তদের মধ্যে তালিকাভুক্তরা হলেন— প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ (ওরফে রাহুল/দাউদ) (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী (ওরফে উজ্জ্বল) (৩৪), সিবিয়ন দিউ (৩২) (ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম (ওরফে রাজু) (৩৭), অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন (ওরফে আলমগীর শেখ) (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফিলিপ স্নাল (৩২) (ভারতে পালানোতে সহায়তাকারী), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিমসহ কয়েকজন পলাতক রয়েছেন।
আদালত ১৫ জুলাই নির্ধারিত শুনানিতে সিআইডি কর্তৃক দাখিলকৃত বা দাখিলযোগ্য অতিরিক্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর পুনরায় শুনানি করবে। মামলার জটিলতা ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে এই মামলার টিকা-টিপ্পনী ও ধার্য পরিবর্তন কার্যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে।





