রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব পাস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম দিনে এই প্রস্তাব পাস হয়। বৈঠকটি সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সফলতা নিয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি জানান, সফরে দুদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সহযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, গণচীনের সঙ্গে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং দুই দেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ আলোচনার পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রস্তাবটি স্পিকারের কাছে কণ্ঠভোটে উপস্থাপন করা হলে সংসদেরTreasury এবং বিরোধী দলীয় সদস্যরা একমত পোষণ করে তা অনুমোদন করেন। এ সময় আলোচনা অংশগ্রহণকারীরা প্রধানমন্ত্রীর ভ্রমণকে পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন দিক হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গেছেন—পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ, নন-ইন্টারফিয়ারেন্স ও সামরিক ও কৌশলগত স্বায়ত্বশীলতার ভিত্তিতে—সেটি দেশের বহির্বিশ্ব সম্পর্কের নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করছে। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও শক্তি সেক্টরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং চীন আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার; এই সফর দুদেশের সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদার করবে।

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান মির্জা ফখরুলের প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, দুদেশই বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী যে আলোচনাসমূহ করেছেন তা দেশের স্বার্থে গুরুত্ব বহন করে। তিনি সংসদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করার জোর দাবি জানান এবং উল্লেখ করেন যে যে কোনো মৌলিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা উচিত, যাতে জনগণ জানেন ও সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকে। শফিকুর রহমান স্বাধীন ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্রনীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থ সুরক্ষায় মিউচুয়াল ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি করা হবে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর জাতীয় স্বাধীকার, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে এবং বিশেষত অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এটি ভূমিকা রাখবে। স্পিকার মির্জা ফখরুলের উত্থাপিত প্রস্তাবটি ভোটে নেওয়ার ঘোষণা করে কণ্ঠভোটে ধন্যবাদ প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

সংসদে উত্থাপিত ও গৃহীত এই ধন্যবাদ প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিককালের বিদেশী সফরের ফলাফল ও দুদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্য ও আশাবাদ বহন করে।