রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিরোধীদলীয় নেতা: সংসদকে পাশ কাটিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি করা যাবে না

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি বা নীতিগত সিদ্ধান্ত সংসদকে পাশ কাটিয়ে গ্রহণ করা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যে মৌলিক চুক্তি হয় তা সংসদে উপস্থাপন করা হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ওপর জোর দেন তিনি।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের বিষয়ে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে চলমান আলোচনা অংশগ্রহণকালে ডা. শফিকুর এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উত্থাপিত ওই ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ; দেশের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি সময়ের দাবি, এবং বিরোধী দল হিসেবে তারা গঠনমূলক প্রয়াসে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘সংসদকে পাশ কাটিয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। জাতীয় সংসদই হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কেন্দ্র। সংসদে চুক্তি উপস্থাপন করলে জনপ্রতিনিধিরা তা পর্যালোচনা করতে পারবে এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থা আরও মজবুত হবে।’’

তিনি প্রধানমন্ত্রী সফরের প্রসঙ্গে বলেন, সফরকৃত উভয় দেশই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। তবে দেশে চলমান বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন যে, বাংলাদেশ এখনও আমদানিনির্ভর অর্থনীতি এবং রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমানে দেশের রপ্তানি প্রধানত তৈরি পোশাক শিল্প ও কর্মী প্রেরণের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা কমিয়ে নতুন খাতে রপ্তানি সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এজন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে—এতে রফতানি বৈচিত্র্য বাড়বে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরে এসব অর্থনৈতিক ইস্যু প্রাধান্য পেয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় তা প্রতিফলিত হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে—কোনো ধরনের বাহ্যিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় অবস্থান করা উচিত; অন্য দেশের ক্ষতি না করার পাশাপাশি নিজেদের স্বার্থও অক্ষুন্ন রাখতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনেরও দাবি জানান। সরকারি দল সব কৃতিত্ব নেওয়া এবং বিরোধী দল কেবল বিরোধিতা করাই—এমন আচরণ থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে উঠলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়বে।

ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘সরকারকে বিরোধী দলের মতামতকে সম্মান করতে হবে, আর বিরোধী দলকে দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে।’’ এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চা শক্তিশালী হবে এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।