উদ্বোধনের পর চার বছরে পদ্মা সেতু থেকে মোট সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি টোল সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানানো হয়েছে এই অর্থ আদায়ের পরিসংখ্যান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিে উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত ওই নথিতে বলা হয়েছে, উদ্বোধনের পর থেকে সেতুটি দিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার করেছে। একই সময়ে টোল বাবদ মোট সংগ্রহ হয়েছে ৩,৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা। (পরিসংখ্যান চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী—চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত।)
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০,৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকায় নির্মাণ করা হয় এবং ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন করা হয়। পরদিন ২৬ জুন থেকে যান চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়।
সেতু বিভাগ জানায় যে সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশের সেতু কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী ১ শতাংশ সুদে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা ৩৫ বছরের মধ্যে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই অর্থ প্রতি অর্থবছরে চার কিস্তিতে, মোট ১৪০ কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা। এ পর্যন্ত টোলের অর্থ থেকে ১৬টি কিস্তিতে ২,৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে এবং কোনো কিস্তি বকেয়া নেই বলে সেতু বিভাগ জানিয়েছে।
টোল আদায়ের ১৫ শতাংশ হিসাবে ভ্যাট হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২২১ টাকা।
সেতু বিভাগ বলছে, পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।





