বাগেরহাটের রামপালে অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ চিপস খেয়ে বড় দুর্গাপুর গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুরে; এরপর মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম চালিয়ে সেই দোকান সিলগালা করা হয়েছে ও মালিক মনোরঞ্জন মন্ডলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বড় দুর্গাপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের মনোরঞ্জন মন্ডলের দোকান থেকে খোলা চিপস কিনে খায়। চিপসগুলো ছিল এমন ধরনের মোড়কে রাখা—যা ডিটারজেন্ট প্যাকেটের সঙ্গে সদৃশ—যার কারণে মিশ্র অবস্থা সৃষ্টি হয়। খাবার খাওয়ার পর ১২ শিক্ষার্থীর মধ্যে পেটে ব্যথা, বমি এবং শারীরিক অস্বস্তি দেখা আসে।
পড়শি শিক্ষক ও অভিভাবকরা দ্রুত তাদের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রস্থ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যান। মৈত্রী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাকিব রেজোয়ান জানিয়েছেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ১২ জনের মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। গুরুতর অবস্থার এক শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৈত্রী হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হয়েছে। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষে বেশিরভাগকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে সবাই স্বাভাবিক অবস্থায় আছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
ভূমি কার্যক্রম হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালতে তদন্তে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনিরাপদ খাদ্যপণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে দোকানদার মনোরঞ্জন মন্ডলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং দোকানটি সিলগালা করা হয়।
বড়ে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাংশু রায় বলেন, ‘দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও এখন সুস্থ আছে।’ রামপাল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার অভিযোগের খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের সহায়তায় দোকানটি সিলগালা করা হয়েছে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, অভিভাবকরা স্কুলের বাইরে বাছাইহীনভাবে শিশুকে খাবার না দেওয়ার বিষয়ে আরও সতর্ক হোন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করেন, শিশুদের জন্য অবশ্যই অনুমোদিত ও নিরাপদ খাদ্যপণ্য কিনতে এবং প্যাকেটের মেয়াদ ও গুণগত মান যাচাই করে খাবার দেওয়ার দিকে খেয়াল রাখতে।





