শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মহানাটকীয় লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়াকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

ফুটবল বিশ্বদর্শীরা একটি মহানাটকীয় লড়াই দেখল — টরন্টো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে শেষ-৩২ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগালের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষে ২-১ গোলে জিতেছে রবের্তো মার্তিনেসের পর্তুগাল।

প্রথমার্ধে পর্তুগালের আক্রমণের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বিপাকে পড়া প্রতিরোধ ভেঙে দিতে তারা যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করেও শেষ করার সময় জালে বল পাঠাতে পারেনি। বিরতির আগে মাঠের ছবি স্থির মনে হলেও দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ বিপরীত দেখা গেল — ক্রোয়েশিয়া পুনরুজ্জীবিত হয়ে দারুণ খেলা শুরু করল।

দ্বিতীয়ার্ধে এগোয় ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচের শটেabila তারা বিরতিকে ভেঙে কাজে লাগিয়ে গোল করে এগিয়ে যায়। ভাগ্যের ধরে পর্তুগাল ধাক্কা খেয়ে গেলেও তারা মিলেমিশে যুদ্ধ শুরু করে এবং পরে পেনাল্টি থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সমতা ফিরিয়ে আনেন — একটি রেকর্ডগঠনের মুহূর্তে রোনালদোর গোলে ম্যাচ আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে।

খেলার নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হলেও যোগ করা সময়ে থেমে নেই নাটক। ৯৪তম মিনিটে বাম থেকে রাফায়েল লিয়াও ধৈর্য ধরে নিখুঁত ক্রস ভাসিয়ে দিলেন বক্সের ভেতর। সেখানে বদলি ফরোয়ার্ড গন্সালো রামোস দুই ডিফেন্ডারের মাঝ থেকে ঝাঁপিয়ে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠিয়ে বেঞ্চ থেকে নামেই দলকে এগিয়ে দেন — লিভাকোভিচের পক্ষে রক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না।

রামের এই গোল পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দিলো এবং স্টেডিয়ামে উল্লাসের ঢেউ ওঠে। কিন্তু নাটক এখনো শেষ হয়নি। ক্রোয়েশিয়া মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় এবং যোগ করা সময়ের ত্রয়োদশ মিনিটে মনে হল ম্যাচ আবার সমতায় ফিরছে যখন মারিও পাশালিচের নামানো শট জালে গিয়ে যায়। খুশিতে মাতোয়ারা ক্রোয়েশিয়ানরা উদযাপন শুরু করলে ভিএআরের ইঙ্গিতে রেফারি মাঠের পাশে থাকা মনিটরে রিপ্লে দেখেন।

রিপ্লেতে দেখা যায় মাতানোভিচ বল স্পর্শ করেছিলেন, কিন্তু সেই মুহূর্তে পাশালিচ অফসাইড অবস্থায় ছিলেন। ফলে পুরো আক্রমণটি অফসাইড হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল করে দেওয়া হয়। গোল বাতিলের মুহূর্তে স্টেডিয়ামে মিশ্র আবেগ — পর্তুগিজ সমর্থকদের উল্লাস আর ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের হতাশা।

গোল বাতিলের পরেও ক্রোয়েশিয়া হাল ছাড়েনি। ৯৯তম মিনিটে তারা আরেকটি কর্নার পায়, যেখানে মাতানোভিচের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। লুকা মদরিচ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলকে আক্রমণে রাখার চেষ্টা করেন, আর পর্তুগালের ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও সময় নষ্ট না করে শট নেন — যা বাইরে যায়। এরপর ক্রোয়েশিয়ার দ্রুত পাল্টা আক্রমণেও গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা তার দায়িত্বে সতর্ক থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত শেষ বাঁশি বাজে।

এই নাটকীয় লড়াইয়ে পর্তুগাল শেষ ষোলোয় উঠে যায়। ম্যাচ জয় ছিল কৌশলগত ধৈর্য, দ্রুত বদলি এবং যোগ সময়ে কঠোর সামর্থ্যের ফল — আর স্টেডিয়ামে থাকা দর্শকদের জন্য এক অবিস্মরণীয় প্রদর্শনী।