ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপ দেখানো সকল স্থানে বিশেষ নজরদারি থাকবে। শুক্রবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দর্শকবিন্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখার জন্য থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন ওই স্থানে নিয়মিত থাকা নিশ্চিত করবে।
এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল চলমান বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে ব্রাজিল–জাপান ম্যাচের সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সুষ্ঠু তথ্য জানাতে। শফিকুল ইসলাম জানান, যেখানে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখানো হবে সেসব স্থানের আয়োজকদের সঙ্গে স্থানীয় থানা মিলে সরাসরি সমন্বয় করবে এবং ডিবিরও কর্মী মোতায়েন থাকবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
তিনি আরও জানান, আদাবর থানার ঘটনার অনুসন্ধানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গত সোমবার (২৯ জুন) রাত ব্রাজিল–জাপান খেলা দেখতে ও বাঁশি বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তর্কবিরোধ সৃষ্টি হয়। রবিবারের ওই বিরোধের ধারাবাহিকতায় বুধবার (১ জুলাই) রাতে নবোদয় কাঁচাবাজার সংলগ্ন ডি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে অনুষ্ঠিত এক সালিসের শেষ পর্যায়ে ক্ষমতা সংঘর্ষ ও মারামারি হয়।
ঘটনাস্থলে আবুল বাশার ও সাদ্দাম নামে দুই ব্যক্তি ধারালো অস্ত্রে গুরুতর আহত হন। তাঁদের প্রথমে শহীদসোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়; রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবুল বাশারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। অপর আহত সাদ্দাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডিবি-তেজগাঁও বিভাগের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সাহেবনগর এলাকা থেকে রিপন (২৭), নিরব (২৫), মজনু মিয়া (৬০) ও মো. মিজানুর রহমান (৪০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে হত্যায় ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ারের চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে ডিবি জানিয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তত্ত্বাবধান ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় সন্দেহভাজনদের অবস্থান চিহ্নিত করা হয় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাশাপাশি সবাইকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করার সময় সামাজিক মর্যাদা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই সবার দায়িত্ব।





