রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স-মরক্কো মুখোমুখি; ম্যাচের দিন, সময় ও স্থান চূড়ান্ত

কানাডার বিদায়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় ছিল মরক্কো। যে দলের নামই উঠে আসুক, মরক্কো আগে থেকেই জানত যে তারা ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার লড়াইয়ে নামবে—আর সেই প্রতিপক্ষ হল ফ্রান্স।

ফিলাডেলফিয়ায় প্রচণ্ড গরম—প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস—আর অল্প-বেশি দৈহিক কষ্টের মধ্যেই খেলে ম্যাচটি কাটে। লাতিন আমেরিকার প্যারাগুয়েরা যতই শক্ত প্রতিরোধ গড়ুক, ২০১৮ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের আক্রমণভাগও চাপ না ছাড়ে। খেলায় একমাত্র এবং ম্যাচ সংশোধনকারী গোল আসে কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি থেকে। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় তুলে ফ্রান্স টানা চতুর্থবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।

খেলার একটি মুহূর্তে বদলি নামা ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে বক্সে ঢুকে ড্রিবলিং করে বিপত্তি তৈরি করছিলেন; সেখানে গোমেজের ট্যাকল তাকে ফেলে দেয়। প্রথমে ম্যাচ চলতে দিলে রেফারি, পরে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেন। ভরসাযোগ্য ঠাণ্ডা মাথায় স্পটকিক মারেন এমবাপে—এই গোলটি তার চলতি টুর্নামেন্টে সপ্তম এবং ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে ১৯তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

ফ্রান্সের জন্য এটি বড় অর্জন। একই সঙ্গে মরক্কোও আগে থেকেই কোয়ার্টার নিশ্চিত করেছিল, ফলে উভয় দলই এখন সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে দিন-তারিখ ও সময় নির্মাণ করেছে। ফরাসি ও মরক্কো অধিনায়করা আগামী ৯ জুলাই দিবাগত রাত ২টায় মুখোমুখি হবে; কোয়ার্টার ম্যাচের আঙ্গিক স্থল হবে ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়াম।

এই মিলন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতিকে ফের বিকশিত করছে—সেই আসরেও আফ্রিকার প্রথম দলে মরক্কো সেমিফাইনালে উঠে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে লড়েছিল এবং পরাজিত হয়েছিল। এবার অ্যাটলাস লায়নরা কোয়ার্টার থেকে সেমিতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন পুনরায় ইতিহাস গড়ে ওঠানোর উদ্দেশ্যে।

মরক্কো টানা দ্বিতীয়বার সেমিফাইনালের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে খেলছে। গত কালে আফ্রিকার একমাত্র দেশ হিসেবে একাধিক নকআউট ম্যাচ জেতার কীর্তিও তারা গড়েছে—এবারও সেই সাফল্য ধরে রাখার মনস্থির রয়েছে। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মরক্কো দুর্দান্ত ছন্দে—গ্রুপ পর্বে দুই জয় ও এক ড্র ছিল তাদের ব্যাকরণ। কোয়ার্টারে ওঠার পথে তারা কানাডার বিপক্ষে শক্তিশালী পারফরম্যান্সে তিন গোল করে জয় নিশ্চিত করেছিল।

অন্যদিকে ফ্রান্সও গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচই জিতে নকআউটে এগিয়েছিল এবং ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী ফুটবল দেখাচ্ছে। ফলে কাতার স্মৃতি, উভয়ের গতিশীল আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার লড়াই মিলিয়ে ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টারটা রোমাঞ্চকর লড়াই হওয়ার আশা দেখা দিচ্ছে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন—গরম আবহাওয়া, দ্রুত কনট্রা-আক্রমণ ও সেট-পিস কৌশল এ খেলায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দর্শকরা অপেক্ষা করছে কোন দলই হবে সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়ে এক ধাপ এগিয়ে।