রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আগামী এক সপ্তাহে ভারী বৃষ্টি, ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা

দেশের পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলসহ পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগামী এক সপ্তাহে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। কেন্দ্র জানায়, এই আবহাওয়ার কারণে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি হতে পারে।

রোববার (৫ জুলাই) নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সরদার উদয় রায়হান এক বিশেষ বার্তায় এসব তথ্য জানান। পূর্বাভাস অনুযায়ী ৫ জুলাই থেকে ১২ জুলাই অথবা সন্নিহিত সময়ে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাশাপাশি ভারতের মেঘালয়, আসাম, বরাক অববাহিকা, ত্রিপুরা ও মিয়ানমারের পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় মোট ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

কেন্দ্র জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত একটি মৌসুমি নিম্নচাপ দেশের পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে ৫ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপরে যেতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীপারের নিম্নভূমি কিছু অংশ সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি কিছু স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী দুই দিন এসব নদীর পানি কমতে পারে, তবে ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্থানীয় জনগণ, জলসীমাপার অঞ্চলের বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছে এবং নদীজলোচ্ছ্বাস, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সম্ভাব্য প্লাবন সম্পর্কে নজরদারি বাড়াতে বলেছে।