সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ে ব্রাজিলকে বিদায় করলো, ইতিহাস গড়ল স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নাটকীয় লড়াইয়ে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল নরওয়ে। ম্যানচেস্টার সিটি তারকা হালান্ড ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুইবার গোল করে নরওয়েকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছেন; ব্রাজিল শেষ ষোলোয়েই বিদায় নিল ৩৬ বছর পর।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে অধিষ্ঠিত ছিল ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির স্টেডিয়ামে লাতিন দলটি একের পর এক আক্রমণ করে গিয়েছিল, কিন্তু বারবার নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ডের অসাধারণ সেভে তাল মেলাতে পারেনি তারা। এর আগেই ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের একটি গোল বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে, যা সংবাদে ছিল বড় মুহূর্ত এবং স্টেডিয়ামে হঠাৎ নীরবতা নেমে আসে।

দশম মিনিটে ডি-বক্সে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল হওয়ার পর রেফারি ভিএআরের পর পেনাল্টি দেন। শুটারের ভূমিকায় বসেন ব্রুনো গুইমারেস, কিন্তু তাঁর শট গোলে ঢোকার আগেই নাইল্যান্ড হাতে ধরে রাখেন—ব্রাজিলের বড় একটি সুযোগ মাঠেই থেমে যায়। পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলাতে না পেরে প্রথমার্ধ সাদা পাতায় শেষ করে লাল-হলুদ দলটি।

বিরতির পর নরওয়ে দুইজন পরিবর্তন করে মাঠে ঢোয়ায় অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপকে। ৫৮তম মিনিটে কোচ কার্লো আনচেলত্তি ম্যাথিউস কুনহার বদলে এন্দ্রিককে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং তিনি নামার প্রথম মুহূর্তেই একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন—ভিনিসিয়াসের চমৎকার পাস পেয়ে টোকায় বল নিচ্ছেন, কিন্তু বল গোলবারের পাশ ঘেঁষে চলে যায়।

তারপরও ব্রাজিল আক্রমণে থেমে না, কিছুখন পর রায়ানের দুর্দান্ত শটেও নাইল্যান্ড আবার নরওয়ের ত্রাতা হিসেবে উত্থিত হন। ৬৭তম মিনিটে নেইমার জয়েন্ট করেও মাঠে নামেন এবং দানিলোও পরিবর্তনের অংশ ছিলেন, কিন্তু গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল।

৭৮ মিনিটের পরিপ্রেক্ষিতে পুরো ম্যাচের গল্পটাই বদলে দেয় হালান্ড। করোনো মিনিটের মধ্যে তিনি দু’বার ব্রাজিলিয়ান কোয়ার্টারে অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কার সৃষ্টি করেন—প্রথমত একটি দুর্দান্ত হেডে আলিসনকে পরাস্ত করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন এবং পরের গোলও তারই তীক্ষ্ণ উপস্থিতি আর সমাপ্তির ফল। (দুইটি গোলই ম্যাচের শেষপর্যায়ে আসে এবং সামগ্রিক ব্যবধানে নরওয়েকে এগিয়ে রাখে)।

যোগ হওয়া সময়ে ব্রাজিল একটি পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করে শূন্যতাকে কমাতে সক্ষম হন, তবে সেটা পর্যাপ্ত ছিল না; শেষ স্কোর ২-১। নরওয়ের এই জয়টা কেবল এক ম্যাচ জয় নয়—এটি তাদের ফুটবল ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। হালান্ডের দানবীয় পারফরম্যান্সের ফলে নরওয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে শেষ ষোলোয়েই বিদায় নিতে হয়েছে।

ম্যাচ জুড়ে উভয় দলের নানা সুযোগ-চেষ্টা, রক্ষণভাগের সাফল্য ও নাটকীয় মোড়ের প্রতিফলন ছিল; তবু ফলাভিশ্বাসযোগ্যভাবে নরওয়ের তরুণ ফুটবল ও হালান্ডের স্ট্রাইকারি নৈপুণ্যই ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করে দিল।