সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মেসি-এমবাপের পরে হালান্ড—ইতিহাসে প্রথমবার তিন খেলোয়াড়ই এক আসরে ন্যূনতম সাত গোল

সামনে মেসি, এমবাপে বা রোনালদোর নাম থাকলেও আর্লিং হালান্ড নিজের এক অনন্য অধ্যায় লিখছেন—অভিষেক বিশ্বকাপে। মেসির ও এমবাপের সঙ্গে সমান ৭টি গোল করে হালান্ড এখন গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে সরব উপস্থিতি দেখিয়েছেন। একইসঙ্গে ফুটবল বিশ্ব شاهد হলো প্রথমবারের মতো এক আসরে তিনজন খেলোয়াড়ই ন্যূনতম সাতটি গোল করার রেকর্ডের জন্ম।

গতরাত (রোববার) ঘটে যাওয়া ম্যাচে নরওয়ে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় জানিয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে; সেই জয়ে দুইটি গোল করেই হালান্ড ছিলেন নায়ক। এই জয়ে নরওয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে — দেশটির ইতিহাস গড়ার রাতে হালান্ডের অবদানই সবচেয়ে বড়।

৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উঁচু এই ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার জাতীয় দলের জার্সিতে আগেই গোলমেশিন হিসেবে পরিচিত। নরওয়ের হয়ে সর্বশেষ ১৪টি ম্যাচে তিনি ২৭টি গোল করে যাচ্ছেন—এমন ধারাধারিত্বই তাকে এই মঞ্চে আলাদা করে তুলেছে। ম্যাচের পর হালান্ড বলেছিলেন, এমন এক রাত নরওয়ে ও তাদের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পরিসংখ্যানও তার ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্সের সাক্ষী। এক আসরে তিন খেলোয়াড়েরই সাত বা ততোধিক গোল করা এটাই প্রথমবারের ঘটনা—মেসি ও এমবাপের সঙ্গে হালান্ডের নামও উঠে এসেছে সেই তালিকায়। পাশাপাশি অভিষেক বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ গোল করার তালিকায় হালান্ডও নাম লিখিয়েছেন; এ রেকর্ডে আগে যে নামটি ছিল তা পোলিশ ফরোয়ার্ড গ্রেজেগর লাতোর (১৯৭৪)। মজার ব্যাপার হলো, মেসি (১), এমবাপে (৪) ও রোনালদোরা (১) তাদের নিজ নিজ অভিষেক বিশ্বকাপে মিলিয়েও সাত গোল করেননি।

এমনকি এই আসরে হালান্ড তিনটি ম্যাচে একাধিক গোল করেছেন—এটি এক আসরে সবচেয়ে বেশি একাধিক গোল করা ম্যাচ হিসেবে তৃতীয় অবস্থান। এক আসরে তার চেয়ে বেশি একাধিক গোলের ম্যাচ করেছেন কেবল জাস্টিন ফন্টেইন (১৯৫৮) ও স্যান্ডর কোচসিস (১৯৫৪), যারা চারটি করে ম্যাচে একাধিক গোল করেছিলেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে হালান্ডের জোড়া গোলও স্মরণীয়—বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কোনো খেলায় এক ম্যাচে জোড়া গোল করার তালিকায় তিন নম্বর নাম হিসেবে তিনি অন্তর্ভুক্ত হলেন; আগে যারা করেছেন তারা ছিলেন জার্মান তারকারা টনি ক্রুস ও আন্দ্রে শুরলে।

আরও একটি দিক থেকে হালান্ড ইতিহাসের পাতায় দিলেন স্থান: বিশ্বকাপ জাদুতে ন্যূনতম চারটি ম্যাচে জয়সূচক গোলের কাতারে তিনি এখন চতুর্থ ফুটবলার। সমান চার ম্যাচে জয়সূচক গোলের রেকর্ড আছে সালভাতোর শিল্লাচি ও গার্ড মুলারের। একমাত্র গ্রেজেগর লাতোরই পাঁচটি ম্যাচে এমন গোলের রেকর্ড আছে।

সব মিলিয়ে, হালান্ডের এই বিশ্বকাপ অভিযান এখন পর্যন্ত একাধিক দিক থেকে স্মরণীয় হয়ে উঠেছে—ব্যক্তিগত রেকর্ড, দলকে ইতিহাস গড়ার সহায়তা এবং ম্যাচজয়ী গোলের ধারাবাহিকতা সব মিলিয়ে তিনি ফুটবলবিশ্বে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ছেন।