বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তীব্র গরমে ইউরোপে প্রাণহানি প্রায় ১০ হাজার, জার্মানিতে ৫১২০

মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইউরোপজুড়ে আরও স্পষ্ট হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরের তীব্র গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহে জার্মানি ও অন্যান্য দেশে মোট মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে — যার মধ্যে কেবল জার্মানিতেই মারা গেছেন ৫১২০ জন।

জার্মানির জনস্বাস্থ্য সংস্থা রবার্ট কোচ ইনস্টিটিউট (RKI) বৃহস্পতিবার জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত তাপপ্রবাহজনিত কারণে আনুমানিক ৫১২০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। অধিকাংশ হার্টের ঘটনা জুনের শেষের দিকে集中 হয়ে ছিল, তখন সাপ্তাহিক গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক ওপরে উঠেছিল।

RKIর সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ৪২৭০ জনের বয়স ছিল ৭৫ বছর বা তদূর্ধ্ব। নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি ছিল — যা মূলত অত্যন্ত বয়স্ক লোকসমাগ্রীর মধ্যে নারীদের বেশি অংশ থাকা 때문। প্রবীণ জনগোষ্ঠী এমন তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিম ইউরোপে এই জুন মাস ছিল রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রার — গড় তাপমাত্রা ছিল ২০.৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা হিসাব অনুযায়ি ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ জুন।

এদিকে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের জাতীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০ থেকে ২৮ জুনের তাপপ্রবাহের সময়ে ওই চার দেশে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৪৭০০ এর বেশি ছিল। ইউরোপজুড়ে বয়স্ক জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা—অতিরিক্ত মৃত্যুর এই মিলিত চিত্র চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এক সময় প্রজন্মে একবার দেখা যাওয়া তাপপ্রবাহ এখন প্রায় প্রতিবছর ঘটে যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইউরোপ হচ্ছে এমন এক মহাদেশ যেখানে গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে। WHO তাপের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ‘হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

রেকর্ডতাপ ও বাড়ন্ত মৃত্যুহার দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য জরুরি প্রস্তুতি এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়সাপেক্ষ নয়, অতি প্রয়োজনীয়।