শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অর্থমন্ত্রী: আমানতকারীরা সুদসহ টাকা ফিরবে, কোনো ‘হেয়ারকাট’ হবে না

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সমস্যায় পড়া ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা তাদের টাকা সুদসহ ফিরে পাবে এবং কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ হবে না। তবে এসব ব্যাংক বর্তমানে লোকসানের মধ্যে থাকা কারণে আমানত ফেরত দিতে সময় লাগবে—এমন সতর্কতাও তিনি দিয়েছেন।

বুধবার জাতীয় সংসদে আন্নদানের মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, এই সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ অনিয়ম ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে। অডিটের প্রতিবেদন পেলেই সম্পদ উদ্ধার এবং পরবর্তীতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের পাওনা আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী ব্যক্তি বা পক্ষের সম্পদ, তহবিলের আয় ও অন্যান্য সম্পত্তি অধিগ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দিতে আইনগত বিধান তৈরি করা হয়েছে। এই ক্ষমতার মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করে বিক্রি বা নিলামের মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তদুপরি, দেওয়ানি মামলা ও আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক তাদের ঋণের টাকা আদায় নিশ্চিত করতে ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে এবং নয়টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘নো উইন, নো ফি’ শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ১১টি চুক্তির প্রথম পর্যায়ে কয়েকটি বড় গ্রুপ—সাইফুজ্জামান চৌধুরি, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়েন্ট—কে নিয়ে দেওয়ানি কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে।

এদিকে সমস্যাগ্রস্ত কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ‘ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকদের হক রক্ষা এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় সুবিধা লাভ হবে—একমাত্র খাত হিসেবে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়।

জবাবে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি ঘটনাটিকে ‘হৃদয়বিদারক’ ও দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্নভাবে মোকাবেলার দাবি জানান। জনগণের দ্রুত আর্থিক চাহিদা এবং চিকিৎসা, বিয়েবর্তনের মতো জরুরি পরিস্থিতি বুঝে তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান করেন, তবে পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে আমানতকারীরা উভয় মূলধন ও সুদ সহ তাদের টাকা পাবেন।

সংসদে উপস্থিত রেহানা আক্তার রানু, একজন বিএনপি সংসদ সদস্য, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পক্ষ থেকে সরাসরি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়মের কারণে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহক তাদের টাকা তুলতে পারছেন না এবং লুট-নিয়মে জড়িতদের কঠোর শাস্তি ও টাকা ফেরত দিতে হবে। রানু উল্লেখ করেন, কিছু গ্রাহক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত বাসার সামনে মানববন্ধন করেছেন এবং তাদের আকুতি তিনি মন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

রানু আরও বলেন, ‘হেয়ারকাট’কে তিনি ‘মরণকাট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং দায়ীদের কোথাও থাকুক না কেন ফিরিয়ে এনে বিচারপূর্বক গ্রাহকের টাকা আদায় করার দাবি জানান।

অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান করা কঠিন—কারণ অনেক ব্যাংকই গভীর লোকসানে রয়েছে এবং লোকসান বাড়ছেই—তাই একটু সময় লাগবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য স্পষ্ট: জনগণের আমানত রক্ষা এবং সুদসহ ফেরত দেয়া।