শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এডিবি: ২০২৭ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) মনে করছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এগোচ্ছে এবং ২০২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) জুলাই ২০২৬’ প্রতিবেদনে এডিবি ২০২৬ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশ হিসেবে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারাবাহিক সংস্কার ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ফলে পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে।

এডিবি’র বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুনাগা বলেন, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিবেশের মাঝেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীল কার্যক্রম দেশের অর্থনীতিতে স্থিরতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী রেমিট্যান্স, সেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তা ২০২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করেছে। তবে স্থায়ী উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য আরও বিস্তৃত ও ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কারের তাগিদ দেখা দিয়েছে।

এডিবি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দ্রুত দূর করা জরুরি। এসব পদক্ষেপ বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াবে, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা আরও মজবুত করবে।

প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯.০ শতাংশে থাকতে পারে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হলে ২০২৭ সালে তা ৮.৮ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এডিবি জানায়, মাঝারি পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা পরিচালনার বিধি-নিয়ম সহজকরণ, সুশাসন উন্নয়ন, কর প্রশাসনের সংস্কার এবং রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালে বেসরকারি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ আরও জোরালো হবে। সেবা খাতও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে থাকবে এবং চলমান সংস্কারগুলো ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করে মধ্যমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।

সংস্থার নীতি অনুরোধ হলো — প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানো এবং বহিঃপ্রতিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা সুনিশ্চিত করার জন্য ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।