মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে ফেডারেল সমন দেয়া হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগির নির্দেশে ওই সাংবাদিকদের ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে।
আদেশটি শুক্রবার (১০ জুলাই) ফেডারেল এজেন্টরা কয়েকজন প্রতিবেদকের বাড়িতে গিয়ে হাতে ধরিয়ে দেন। সমন প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন নিউইয়র্ক টাইমসের প্রথিতযশা সংবাদকর্মীরা — জুলিয়ান ই. বার্নস, এরিক লিপটন, টাইলার পেজার ও এরিক শমিট। তাদেরকে আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে কাতার সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের মূল্যমানের নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে কিছু অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি, যেমন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা, অনুপস্থিত বা অপর্যাপ্ত — যা পুরনো মডেলগুলিতে সাধারণত দেখা যায়। প্রতিবেদনে অজ্ঞাত সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এসব ত্রুটির তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল।
প্রতিবেদন প্রকাশের পরে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস প্রেসিডেন্টকে ওই নতুন বিমানের বদলে পুরনো মডেল ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়। বাস্তবে ট্রাম্প সম্প্রতি তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন থেকে ফেরার পথে নতুন বিমানে যাত্রা না করে পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ান ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে অবতরণ করেন। তবে হোয়াইট হাউস এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উভয় পক্ষই বিমানটির নিরাপত্তা ত্রুটি দাবি অস্বীকার করে বলে এসেছে যে বিমানটি সম্পূর্ণ আধুনিক এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রোটোকল বজায় আছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলো। নিউইয়র্ক টাইমসের আইনজীবী ডেভিড ম্যাকক্রো বলেছেন, ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাদের সাংবাদিকদের বাড়িতে গিয়ে সমন পৌঁছে দেয়া—এমন আচরণ আমেরিকার সংবিধান ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মূলনীতিকে নাড়া দেয়।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবও এটিকে স্বাধীন গণমাধ্যমের উপর সরাসরি আঘাত উল্লেখ করে দ্রুত সমন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ একই ধরনের সমন জারি করেছিলেন দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।





