রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এডিবি: ২০২৭ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) মনে করছে, বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিস্থাপকভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সংস্থার ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) জুলাই ২০২৬’ প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত হয় এবং সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩.৭ শতাংশ থাকলেও ২০২৭ অর্থবছরে তা বাড়ে ৪.৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

এডিবি’র বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুনাগা বলেন, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের ধারাবাহিক কার্যক্রম বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করেছে। এতে করে সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা জরুরি। এসব সংস্কার বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াবে, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করবে।

এডিবি লিখেছে, কঠোর সামষ্টিক আর্থিক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও সচল রেমিট্যান্স, সেবা খাতের সম্প্রসারণ এবং অগ্রাধিকৃত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তা ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করবে। সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৯.০ শতাংশ; আর ২০২৭ অর্থবছরে অর্থনৈতিক অবস্থার একটু সহজ হওয়ার সঙ্গে তা কমে প্রায় ৮.৮ শতাংশে নেমে আসবে।

এডিবি আরও বলেছে যে মধ্যম পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা পরিচালনার বিধি-বিধান সহজ করা, সুশাসন উন্নয়ন, কর প্রশাসনের সংস্কার এবং রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে বেসরকারি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী হবে। সেবা খাত ভবিষ্যতেও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং চলমান সংস্কারগুলো ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করে মধ্যমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।

সংস্থার সমাপ্ত বার্তায় বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বহিরাগত অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা আরও জোরদার করতে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার ও বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।