মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারকারী বস্ত্র রপ্তানিতে নগদ সহায়তা ৫% নির্ধারণ

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার উৎসাহিত করতে এবং রপ্তানিমুখী বস্ত্র শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নগদ সহায়তার হার বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। আগের হার ছিল ১.৫ শতাংশ।

রোববার (১২ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং এতে গত ৫ জুলাই জারি করা পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনটি সংশোধন করা হয়েছে। নতুন হারটি বিদ্যমান রপ্তানি প্রণোদনা নীতির আওতায় ‘বিকল্প নগদ সহায়তা’ হিসেবে প্রযোজ্য হবে। সিদ্ধান্তটি সরকারের নির্দেশনায় নেওয়া হয়েছে এবং এর মূল লক্ষ্য—বন্ডেড গুদাম বা ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধা গ্রহণের বদলে দেশীয় উৎপাদকদের কাছ থেকে সুতা ও কাপড় সংগ্রহ করে রপ্তানিকৃত পণ্যের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন বাড়ানো।

অর্থাৎ, বন্ডেড সুবিধা বা ডিউটি ড্র-ব্যাক গ্রহণ করবে না এমন রপ্তানিকারকরা যারা দেশের কাঁচামাল থেকে সরাসরি সুতা ও কাপড় সংগ্রহ করবে, তারা এই ৫ শতাংশ নগদ সহায়তার সুবিধা পাবেন। সহায়তা পেতে রপ্তানিকারকদের অবশ্যই বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) বা সংশ্লিষ্ট কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সদস্য হতে হবে।

তথ্য যাচাই ও দালিলিক প্রমাণ: সুতা, কাপড় ও অন্যান্য যোগ্য কাঁচামাল দেশীয় সরবরাহকারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে—এ বিষয়টি প্রমাণ করতে রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সহায়তার হার বৃদ্ধি হলেও দেশে উৎপাদিত কাঁচামালের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের বিদ্যমান পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

নতুন এই নগদ সহায়তা অর্থবছর ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের এব্যাপারে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে संशোধিত নগদ সহায়তা কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।