মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। তিনি শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

সমাবেশটি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ মোকাবেলার চার দফা দাবিকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘বিভিন্ন কৌশলে আমাদের গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমরা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না। আমরা জাতিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি—লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো। এ থেকে আমরা একচুলও সরে আসব না।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘এই আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আবারও সেই অঙ্গীকার করছি।’’

দলনেতা বলেন, ‘‘আমাদের সন্তানরা বৈষম্য দূর করে পচে যাওয়া রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য লড়াই করেছে। সেই লক্ষ্যে গণভোট করা হয়েছিল। কিন্তু কোথাও এক ঘটনা—বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একসময় বলেছিলেন দুটো ভোট দেবেন, একটি তাঁর দলের জন্য, আর একটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’। প্রথমটি তিনি রক্ষা করেছেন, কিন্তু দ্বিতীয়টি রক্ষা করেননি।’’

তিস্তা প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ‘‘তিস্তা বাঁচাও-নামক আন্দোলন নিয়ে নির্বাচনকালে প্রচারণা করেছিলেন সরকারী জায়গার কিছু নেতা। কিন্তু বর্তমানে প্রস্তাবিত বাজেটে তিস্তার জন্য একটাও টাকা বরাদ্দ নেই—এটি আমরা মেনে নিতে পারি না। কথার ফুলঝুরি চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ চাই। যদি এই সরকার ব্যর্থ হয়, আগামী নির্বাচনে আপনারা যদি আমাদের পাশে থেকে ক্ষমতায় আনেন, ইনশাআল্লাহ ১১ দলে সরকার গঠন করে সেই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’’

সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়েও শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘সীমান্ত জুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে, প্রতিবেশী দেশে সীমান্তে কার্যক্রম বাড়ছে; সরকার এ বিষয়ে চুপ রয়েছে। আমরা ও জনগণ প্রতিবাদ করছি। শুধু প্রতিবাদই নয়, জনগণ অনেক সময় সীমান্তে বিজিবি সৈনিকদের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করেও উত্তেজনা প্রতিরোধ করছে—এদের আমরা অভিনন্দন জানাই। সরকার এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি।’’

তিনি জনগণের দাবি ও অনুভূতিকে উপেক্ষা না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘জনগণের অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। স্পষ্ট কথা—তিস্তার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।’’ সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত গণমানুষ তাদের দাবিতে একযোগে সাড়া দেন।